স্ত্রী সন্তানসহ পালালেন পর পুরুষের সঙ্গে, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়েও উধাও — সাংবাদিকদের শরণাপন্ন অসহায় স্বামী।
খোয়াই, ত্রিপুরা । রিপোর্ট: কালিদাস ভৌমিকঃ মানুষের জীবনে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়, তবে রথযাত্রার উৎসবের দিন এমন এক ঘটনা ঘটে গেল, যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত দাস অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রী রেশমি দাস রথের দিন বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সন্তানসহ এক পর পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ঘরের সবটুকু ভরসা—তিন বছর সাত মাস বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তান, প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ পঁইতাল্লিশ হাজার টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত রথযাত্রার দিন। পরিবারিক প্রথা মেনে রেশমি তাঁর বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন বেড়াতে। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিতে গিয়ে প্রশান্ত জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী এক পর পুরুষের সঙ্গে পালিয়েছেন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন তাঁদের শিশুকন্যাকেও। শুধু তাই নয়, ঘরের লকারে থাকা সোনার গয়না ও নগদ অর্থও হাওয়া।
সঙ্কটে পড়ে প্রশান্ত দাস প্রথমেই ছুটে যান কল্যাণপুর থানায়। সেখানে তিনি একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে এবং রেশমি দাসকে তাঁর মায়ের জিম্মায় তুলে দেয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। প্রশান্তের দাবি, কিছুদিন না যেতেই রেশমি আবারও সেই পর পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যান। এদিকে তিন বছরের শিশুটি এখন কোথায়, কেমন আছে, তা নিয়েই উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন প্রশান্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্বিতীয়বার অভিযোগ জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দেখতে পাননি তিনি।
একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায়, এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার আকুতি নিয়ে এবার তিনি দারস্থ হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণই এখন তাঁর শেষ ভরসা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিকট আত্মীয়দের অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের জটিলতার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না—বিশেষ করে একটি শিশু কন্যার ভবিষ্যতের প্রশ্ন যখন জড়িয়ে থাকে।








