৮১.৬% পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ, অর্থ সংকটে পড়াশোনা বন্ধ—মেধাবী তৃষার পাশে সমাজ।
নিউজ ডেস্কঃ ত্রিপুরার বামুটিয়ার তেবাড়িয়া গ্রামের এক মেধাবী ছাত্রী তৃষা রায় সাম্প্রতিক সময়ে তার শিক্ষাজীবনে বড় এক সংকটের মুখোমুখি হয়। অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পারায় পড়াশোনা থামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থী। গত ২৯ জুলাই এই হৃদয়বিদারক খবরটি ত্রিপুরার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি নড়েচড়ে বসায় সমাজের অনেককে।

তৃষা রায় তেবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন এবং এরপর ভর্তি হন গান্ধীগ্রাম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। সম্প্রতি তিনি উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন এবং প্রাপ্ত করেন ৮১.৬ শতাংশ নম্বর। বিশেষ করে বাংলা, বিজ্ঞান ও ভূগোল—এই তিনটি বিষয়ে তিনি ‘লেটার মার্ক’ অর্জন করেছেন। বাংলায় পেয়েছেন ৮২, বিজ্ঞানে ৮৬ এবং ভূগোলে ৯০ নম্বর। কিন্তু এতদসত্ত্বেও পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ভবিষ্যতের পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
তৃষার বাবা সন্তোষ রায় একজন দিনমজুর। পরিবারের অভাব এতটাই প্রকট যে, মেয়ের জন্য গৃহশিক্ষকও রাখতে পারেননি। তৃষার প্রতিভা এবং সংকটের খবর দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতেই তা নজরে আসে বামুটিয়া মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতি বিজু পালের। সংবাদটি পড়ে তিনি সরাসরি তৃষার বাড়িতে পৌঁছে যান এবং তৃষার বাবার হাতে তুলে দেন ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা।
বিজু পাল বলেন, “আমি যখন মন্ডল সভাপতি ছিলাম, তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে এই এলাকার কোনো ছেলেমেয়ে যেন শুধুমাত্র অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে। তৃষা যেমন মেধাবী, তেমন পরিশ্রমী—আমার বিশ্বাস, সে ভবিষ্যতে সমাজে বড় অবদান রাখবে।”
এই ঘটনা এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। একজন রাজনৈতিক নেতার এমন দায়িত্বশীল ভূমিকায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তৃষার বাবা। তিনি বলেন, “তৃষা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো। কিন্তু অভাব আমাদের সব স্বপ্নকে আটকে রেখেছিল। আজ যেটুকু সাহায্য পেলাম, তা আমাদের কাছে আশীর্বাদের মতো।”
এই ঘটনার পর তেবাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামগুলোয় শিক্ষার গুরুত্ব এবং সমাজের দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন উদ্যোগ যদি আরও বিস্তৃতভাবে নেওয়া হয়, তবে বহু প্রতিভা অর্থের অভাবে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে।








