পুলিশের জালে জনপ্রিয় মেডিকেল হলের মালিক! ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু, উত্তাল তেলিয়ামুড়া!
তেলিয়ামুড়া, ২৩ জুন ২০২৫ঃ তেলিয়ামুড়ায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। জনপ্রিয় এক মেডিকেল হল ও তার মালিকের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ—ভুল চিকিৎসা ও গাফিলতির ফলে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। অভিযোগ উঠেছে, প্রাইভেট চেম্বারে বসে চিকিৎসা করা জনৈক তাপস কুমার সরকার নামের এক চিকিৎসকের ভুল প্রেসক্রিপশন এবং মেডিকেল হলের মালিকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই প্রাণ গেছে ২৫ বছর বয়সী রাখী দেবনাথ নামের এক তরুণীর।
ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল হল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পুলিশের তরফে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত মেডিকেল হলের মালিককে। গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসক তাপস কুমার সরকারও পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে হালকা অসুস্থতার কারণে গৃহবধূ রাখি সাহাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওই প্রাইভেট চেম্বারে। চিকিৎসক তাপস সরকার তাকে ওষুধ দেন, যা কিনা উক্ত মেডিকেল হল থেকেই সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে রাখি সাহার। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও, চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল প্রেসক্রিপশন এবং মেডিকেল মালিকের অযোগ্যতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের জেরেই তাদের আদরের মেয়েকে হারাতে হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের তরফে মেডিকেল হলটিকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ, নানা চিকিৎসা-সংক্রান্ত সামগ্রী, যা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
জনগণের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিক্ষোভের মুখে, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে অভিযুক্ত মালিককে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের কাউকে ছাড়া হবে না। রাজ্য সরকার গৃহবধূর পরিবারের পাশে রয়েছে।” তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের তরফে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকার শান্তি বজায় রাখতে।
এখন প্রশ্ন একটাই—নিগৃহীত রাখি সাহার পরিবারের কণ্ঠস্বর কি আদৌ বিচার পাবে? নাকি আবারও আইনের ফাঁকফোকরে পার পাবে প্রভাবশালীরা? উত্তর খুঁজছে গোটা তেলিয়ামুড়া।








