দুর্গম দাগ্রামবাড়িতে অবশেষে সহানুভূতির ছোঁয়া! এডিসি’র উদ্যোগে মশারী ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ – জনজাতি পরিবারের মুখে সাময়িক স্বস্তির হাসি।
২২ জুন ২০২৫ তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধিঃ ত্রিপুরার মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের অন্তর্গত হলুদিয়া ভিলেজ কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত দাগ্রামবাড়ি একটি অন্যতম দুর্গম জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। খোয়াই নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চল কাকড়াচড়া থেকে হেঁটে, নদী পাড়ি দিয়ে, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পৌঁছাতে হয়। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এখনো অনেকটা বিচ্ছিন্ন এই দাগ্রামবাড়ি – যা যেন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এই প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৫০ থেকে ৫২টি পরিবার মূলত জনজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হল জুম চাষ। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেও তারা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখনও পর্যন্ত এই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায়নি, নেই নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জলের ব্যবস্থাও। ফলে বসবাসকারীদের জীবনে প্রতিনিয়ত অসুবিধা নেমে আসে, বিশেষ করে বর্ষাকাল এলেই। বর্ষা মানেই দাগ্রামবাড়ির জন্য দুর্যোগ—এই মরসুমে এলাকায় ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়ার মতো অসুখ দেখা দেয় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে। তবে যথাযথ চিকিৎসা কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা, অনেক সময় রোগ নির্ণয় করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (ADC) ই.এম তথা নির্বাহী সদস্য কমল কলই নিজের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দাগ্রামবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের উদ্যোগে এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে ঔষধী মশারী, ওষুধ ও মৌলিক চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করেন। এই কর্মসূচিতে কমল কলই-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ১১ মহারানী ব্লকের তিপ্রামথা এবং ওয়াই টি এফ (Youth Tipra Federation) -এর একাধিক নেতা-কর্মী, যারা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে থেকে সাহায্য করেন।
কমল কলই বলেন,
“এই অঞ্চলের মানুষের অবস্থা খুবই করুণ। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই, ভবিষ্যতে এখানে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হোক যাতে অন্তত মৌলিক চিকিৎসা পরিষেবা তারা পেতে পারে। আজকের এই পদক্ষেপ তারই সূচনা।” স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের কথায়,
“এমন সাহায্য অনেকদিন পর পেলাম। অন্তত কয়েকদিন একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাবে এই মশারী পেয়ে। সরকার যদি বারবার এভাবে পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আমরাও একটু স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবো।” তবে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান কীভাবে আসবে? দাগ্রামবাড়ির মতো দুর্গম জনজাতি এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যের স্থায়ী পরিকাঠামো গড়া ও পানীয়জলের ব্যবস্থা করাই এখন সময়ের দাবি। কমল কলই-সহ এডিসি’র এই মানবিক উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ ছাড়া এই তৎপরতা যেন শুধুই “এক দিনের আলো” না হয়ে পড়ে—এটাই স্থানীয়দের আশা।








