বাধারঘাট মাতৃপল্লীতে হৃদয়বিদারক শোক! একসঙ্গে তিন তরুণের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন মানিক সরকার।
আগরতলা , ২২ জুন ২০২৫ঃ আগরতলার বাধারঘাট এলাকার মাতৃপল্লীতে গতকাল ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা গোটা এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জলের তোড়ে প্রাণ হারালেন একসঙ্গে তিনজন তরুণ। পরিবার হারাল তাদের ছেলেকে, বন্ধুরা হারাল তাদের প্রাণের সঙ্গীকে, আর এলাকা হারাল তরতাজা তিনটি ভবিষ্যৎ।

এ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মৃত তিন তরুণ — প্রত্যেকেই এলাকার পরিচিত মুখ, প্রাণবন্ত, স্বপ্নে ভরা, জীবনের শুরুতে পা রাখা যুবক। জানা গেছে, স্থানীয় একটি পুকুরে স্নান করতে গিয়ে গভীর জলে ডুবে যায় তিনজনেই। দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাতৃপল্লী যেন শোকের শহরে পরিণত হয়। আহাজারিতে ভেঙে পড়ে পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনসহ গোটা সমাজ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনহারাদের সমবেদনা জানাতে আজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার।
সাথে ছিলেন সিপিআইএমের অন্যান্য সিনিয়র নেতা-নেত্রীরা ও স্থানীয় নেতৃত্ব, যারা শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। নেতারা প্রতিটি পরিবারে গিয়ে গভীর সমবেদনা জানান এবং এমন দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শক্ত থাকবার আবেদন করেন।

মানিক সরকার বলেন,
“এই ঘটনা শুধু তিনটি পরিবার নয়, গোটা সমাজের কাছে অপূরণীয় ক্ষতি। এমন প্রাণহানির ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সেই দিকে প্রশাসন ও সমাজ—উভয়কেই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে ও দলীয়ভাবে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই পুকুরটিতে কোনও সতর্কতা বোর্ড ছিল না, ছিল না কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা সীমানা চিহ্নিতকরণ। তাদের দাবি, এলাকায় অব্যবহৃত জলাশয়গুলিতে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
এদিন শোকপ্রকাশের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।
এদিকে এলাকাবাসীও মানিক সরকারের উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, একজন সমাজের প্রবীণ অভিভাবক হিসেবে তার আগমন তাদের মানসিক শক্তি জুগিয়েছে বলেও জানান শোকাহত পরিবারের এক সদস্য।
? এখন প্রশ্ন: এই শোক কি শুধুই এক দিনের? নাকি ভবিষ্যতের জন্য সাবধানতা ও সচেতনতার বার্তা রেখে যাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা?








