আমরা ক্ষতিপূরণ চাই না, শান্তি চাই” — হাতির আতঙ্কে ক্লান্ত কৃষ্ণপুরবাসী, সমাধান কবে?
তেলিয়ামুড়া , কৃষ্ণপুর প্রতিবেদক– মৃণময় রায়ঃ তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত কৃষ্ণপুর, মুঙ্গিয়াকামি সহ আশপাশের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে আবারও শুরু হয়েছে বন্য হাতির উপদ্রব। এই সমস্যাটি নতুন নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরেই এলাকা বাসীদের কাছে রীতিমতো এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের একাধিক আশ্বাস, ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি এবং বন দপ্তরের নানা পদক্ষেপের পরেও এখনও পর্যন্ত এই পরিস্থিতির সুরাহা হয়নি। গতকাল রাত গভীরে – আনুমানিক ভোর তিনটা নাগাদ – উত্তর কৃষ্ণপুর এলাকায় ফের একবার বন্য হাতির হানা। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই কয়েকটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং একাধিক ঘরবাড়ি নষ্ট করে ফেলে। অনেক বাড়ির চালা উপড়ে ফেলা হয়, কিছু ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে, আর গোয়াল ঘরে থাকা গবাদি পশুগুলোকেও ভয়ানক আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয় এই বন্য প্রাণীগুলি। হাতির হঠাৎ এই তাণ্ডবে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কেউ পাহাড়ে ওঠে, কেউবা কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। একসময় পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে যে, গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রাণপণে পালানোর হিড়িক পড়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে বন দপ্তরের স্বেচ্ছাসেবক দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং বহু চেষ্টা করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হস্তক্ষেপ একেবারেই বিলম্বে হয়েছে – যদি আরও দ্রুত বন দপ্তরের টিম পৌঁছাত, তাহলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শুধু ঘরবাড়ি বা ফসল নয়, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এর আগেও। কিন্তু আজও সমস্যার মূল সমাধান নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে তা অনেক সময়েই হয় অসম্পূর্ণ বা পর্যাপ্ত নয়। একজন স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “আমাদের আর ক্ষতিপূরণ চাই না। আমাদের প্রয়োজন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে হাতিগুলো গ্রামে না আসে। সরকার যদি চায়, তাহলে প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, সমস্যার প্রকৃত সমাধানে কোনও আন্তরিক উদ্যোগ নেই।” প্রতিবছর বর্ষার সময় শুরু থেকেই বন্য হাতির এমন হামলা বৃদ্ধি পায় – খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে তারা। তবে বন দপ্তরের একাংশের মতে, জঙ্গলের খাদ্যাভাব এবং হাতির আবাসভূমির সংকোচন এর প্রধান কারণ। এখন দেখার বিষয়, আজকের ঘটনার পর প্রশাসন ও বন দপ্তর এই সমস্যা নিরসনে বাস্তবিক কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করে কিনা, নাকি আবারও কিছু দিনের মধ্যেই কৃষ্ণপুর, মুঙ্গিয়াকামি সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি হাতির তাণ্ডবে কাঁপবে – আতঙ্কের ঘোর কাটবে না সাধারণ মানুষের!








