দেহব্যবসা ও নেশার গোপন জাল বিস্তার খোয়াই শহরে! গোপন অভিযানে পুলিশের সাফল্য, মহিলা থানার ভূমিকায় প্রশ্ন।
খোয়াই, ২১ জুন, কালি দাস ভৌমিকের রিপোর্টঃ ত্রিপুরার খোয়াই শহরে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে বেড়ে চলেছে নেশা ও দেহব্যবসার অন্ধকার সাম্রাজ্য। সম্প্রতি শহরের বনকর এলাকায় এক মক্ষীরানীর আস্তানায় পুলিশের হানার ঘটনায় ফের উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন— প্রশাসন কি চোখ বন্ধ করে আছে? না কি এর নেপথ্যে রয়েছে গোপন সমঝোতা?
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে, খোয়াই আউটপোস্টের ওসি রঞ্জিত সরকার-এর নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকের পুলিশ বনকর এলাকার শংকর নাথ শর্মার বাড়িতে অভিযান চালায়। সূত্র অনুযায়ী, সেই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে এক মহিলার নেতৃত্বে গোপনে চলছিল দেহ ব্যবসা এবং নেশার সামগ্রী বেচাকেনা। অভিযানে পুলিশ এক মহিলাকে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য ও অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই থেকে তিনজন যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে দেহব্যবসার ক্রেতা কিংবা দালাল হিসেবে যুক্ত থাকার। আটক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে — এই ধরণের অভিযানে ধৃত মক্ষীরানীদের অনেক ক্ষেত্রেই মহিলা থানার হাতে তুলে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়, কিংবা তদন্তে শিথিলতা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শহরের একাধিক এলাকায় দিনের আলোতেই চলছে এমন অসামাজিক কার্যকলাপ, যেখানে জড়িয়ে পড়েছে একাধিক বাড়ির মালিকও। বহুক্ষেত্রে কিছু বাড়ির মালিক অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে জেনে শুনেই বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন মক্ষীরানীদের, এবং এইসব বাড়িই পরিণত হচ্ছে নেশা ও দেহব্যবসার গোপন ঘাঁটিতে।
এছাড়াও উঠছে আরও গুরুতর অভিযোগ— খোয়াই থানার একাংশ পুলিশ এই ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না। বরং ধৃত মহিলাদের মহিলা থানায় হস্তান্তর করার পর “মায়ের আদরে” ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। কোনও জোরালো তদন্ত বা পেছনের চক্রকে ধরার তৎপরতা খুব কমই চোখে পড়ে।

স্থানীয় এক সমাজকর্মীর ভাষায়:
“প্রশাসনের চোখের সামনেই শহরটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা ভাবার সময় এসেছে। শুধু ছোটখাটো অভিযানে মেয়েদের ধরলেই হবে না। এই দেহব্যবসা আর নেশার জাল গাঁথা হয়েছে অনেক গভীরে— তার শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে চাই এক কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্ত।”
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় ও ক্ষোভ— শহরের ভেতরে যদি এভাবে দিনের আলোতে দেহ ব্যবসা ও মাদক বেচাকেনা চলে, তবে আগামী প্রজন্ম কোন দিকের দিকে এগোচ্ছে?
এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—
? এই ঘটনায় মহিলা থানার ভূমিকা কী হবে?
? আটক মহিলার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা পালাল, কারা বাড়ি দিয়েছে— তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
? নাকি আগের মতোই ধামাচাপা পড়ে যাবে এই ঘটনাও?
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের নজর এখন প্রশাসনের দিকে। পুলিশের খাকি পোশাকের মর্যাদা রাখতে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও মূলচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ কি গ্রহণ করা হবে? নাকি আবারও মাটি চাপা পড়বে শহরের কলঙ্ক?








