উন্নয়ন প্রকল্প কতটা বাস্তবায়িত? খোয়াইয়ে তিন দপ্তরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
খোয়াই, ১৭ জুন ২০২৫: ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস খোয়াই জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ জেলাভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় খোয়াই জেলাশাসকের কনফারেন্স হলে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসনিক প্রধান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। মন্ত্রী সুধাংশু দাস দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই প্রতিবছর অন্তত দু’বার করে জেলাভিত্তিক এই ধরণের বৈঠক করে থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবিকভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা, এবং যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি বা জটিলতা চিহ্নিত করে সেগুলির দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, “২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধীনে রাজ্যে যে প্রকল্পগুলো চালু রয়েছে, যেমন মাছচাষীদের আর্থিক সহায়তা, খামারিদের জন্য চিকিৎসা ও খাদ্য উপকরণ প্রদান, পশুস্বাস্থ্য ক্যাম্প—এইসব প্রকল্প বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে আজকের আলোচনায় বিশদ মূল্যায়ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য বাজেটের আওতায় যে নতুন প্রকল্প ও পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, সেগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, এবং ভবিষ্যতে তার গতি বাড়ানোর কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়—সে দিকেও দপ্তরগুলির নজর দিতে হবে।” এছাড়া, তপশিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিয়েও বিশদ আলোচনা হয় এই বৈঠকে। শিক্ষা, স্বনির্ভরতা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান সংক্রান্ত নানা পরিকল্পনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পান্থ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, তিনটি দপ্তরের জ্যেষ্ঠ আধিকারিক, এবং জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুর এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকা থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ও অভিজ্ঞতা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো প্রকল্প যেন শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তার বাস্তব সুফল যেন প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। সেজন্য দপ্তরগুলোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনা বৈঠকের শেষে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, “ত্রিপুরার প্রতিটি জেলার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে প্রকল্পগুলির প্রয়োগে কোনো ফাঁক না থাকে। আমরা শুধু পরিকল্পনা করেই থেমে থাকতে চাই না, বাস্তবায়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এই ধরণের পর্যালোচনা বৈঠক সরকারি প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ গড়ে তোলে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।









