ত্রিপুরার আম-আনারসের গৌরব ছড়াতে ‘নাবার্ড অ্যান্ড ত্রিপুরা ফেস্টিভাল ২০২৫’-এর সূচনা, কৃষিপণ্য প্রদর্শনীতে জনস্রোত।
আগরতলা, ১৭ জুন, ২০২৫: ত্রিপুরা সরকারের কৃষি উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নাবার্ড অ্যান্ড ত্রিপুরা ফেস্টিভাল ২০২৫’ আজ থেকে রাজ্যের রাজধানী আগরতলার চিলড্রেন পার্কে শুরু হলো। উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই বছর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাঙ্গো অ্যান্ড পাইনঅ্যাপল এক্সিবিশন অ্যান্ড সেল কাউন্টার’-এ, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক ও উদ্যোগপতিরা তাঁদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা রাজ্যের ট্রাভেল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা,

যিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ত্রিপুরার কৃষিপণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। রাজ্যের আনারস ও আমের স্বাদ সারাদেশেই পরিচিত; এখন প্রয়োজন সেই খ্যাতিকে রপ্তানি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাবার্ড (NABARD)-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, যাঁরা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যে কৃষি পণ্যের বিপণন ও ভ্যালু চেইন উন্নয়নের জন্য নাবার্ড নিয়মিতভাবে সহায়তা দিয়ে চলেছে। উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ত্রিপুরা হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারাও, যাঁরা মেলা প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের দায়িত্বে রয়েছেন। এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট ও মাঝারি চাষিরা, যারা নিজেদের চাষ করা আনারস, আম ও অন্যান্য ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য সরাসরি বিক্রি করছেন। এর ফলে চাষিদের হাতে সরাসরি লাভ পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘নাবার্ড অ্যান্ড ত্রিপুরা ফেস্টিভাল ২০২৫’ আগামী কয়েকদিন ধরে চলবে এবং মেলার প্রতিদিনই থাকবে কৃষিভিত্তিক আলোচনাসভা, পণ্য প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাদ্য উৎসব। ইতিমধ্যেই মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগগুলিকে আরও উৎসাহিত করতেই এই মেলার আয়োজন। চাষি, উদ্যোক্তা, ভোক্তা এবং সরকারি দপ্তরের মধ্যে এক বাস্তব যোগাযোগের সেতুবন্ধ গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।








