রাধাকিশোরগঞ্জ, শান্তির বাজার, ১৭ জুন ২০২৫: ৩৬ নম্বর শান্তির বাজার মণ্ডল বিজেপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে শান্তির বাজার মহকুমার রাধাকিশোরগঞ্জ পঞ্চায়েত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ চৌপাল বৈঠক। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১১ বছরের শাসনকালে গৃহীত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও জনগণের স্বার্থে নেওয়া প্রকল্পগুলি সম্পর্কে আলোচনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। চৌপাল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শান্তির বাজার মণ্ডল বিজেপির সভাপতি দেবাশিস ভৌমিক, মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সেন, বগাফা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান কৃষ্ণাবতী রিয়াং, রাজনৈতিক নেতা আশিষ পাল, অনিল রিয়াং, এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মণ্ডল সভাপতি দেবাশিস ভৌমিক বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১১ বছরে ভারত এক নতুন দিশা পেয়েছে। সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখেই একের পর এক কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পি এম মুদ্রা যোজনা – যেখানে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ, কোনও গ্যারান্টার ছাড়াই ঋণ পেয়ে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হতে পারছে।
- কৃষাণ সম্মান নিধি – কৃষকদের বছরে তিন দফায় নগদ সহায়তা।
- উজ্জ্বলা যোজনা – মহিলাদের রান্নার গ্যাস সংযোগ প্রদান করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা।
- প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা – বেকার যুবকদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ।
- স্বচ্ছ ভারত মিশন – গ্রাম ও শহরে শৌচালয় নির্মাণ।
- সৌভাগ্য যোজনা – বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া প্রত্যন্ত এলাকাতেও।
- আয়ুষ্মান ভারত – দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য বিমা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা।
- গরিব কল্যাণ যোজনা – অতিদরিদ্র পরিবারদের জন্য খাদ্য সহায়তা।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাজকর্মের পাশাপাশি, ত্রিপুরা রাজ্যে বিশেষত শান্তির বাজার বিধানসভা এলাকায় গত ৭ বছরে রাজ্য সরকারের তরফে গৃহীত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথাও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
দেবাশিস ভৌমিক জানান:
- বিচন্দ্রমনু বাজারে নতুন মার্কেট স্টল নির্মাণ,
- বিরচন্দ্র ও শান্তির বাজারে বিদ্যাজ্যোতি মডেল স্কুল নির্মাণ,
- লাসি ক্যাম্প ও বেতাগায় বিদ্যুৎ সাবস্টেশন,
- মনু পঞ্চায়েতে মৎস্য দপ্তরের অফিস,
- তৈকর্ম বিদ্যালয়ে নতুন স্কুল ভবন ও হোস্টেল,
- শান্তির বাজার স্কুল মাঠে স্টেডিয়াম,
- ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ অফিস,
- ট্রমা সেন্টার,
- ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সপোর্ট অফিস সহ আরও অনেক প্রকল্প ইতিমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সেন সাংবাদিকদের জানান, চৌপাল বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রকল্প ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আজকের বৈঠকে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সরকারের প্রতি আস্থা কতটা গভীর।”
লোকজনের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বৈঠকে জনসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উন্নয়ন প্রচেষ্টার সাফল্য তুলে ধরে ভবিষ্যতের দিশা নিয়েও আলোচনা হয়।








