“আনারস চাষে নতুন স্বপ্ন গড়ছেন তেলিয়ামুড়ার কৃষকরা”
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা ১৬ জুন ২০২৫ঃ বর্ষা মৌসুম এলেই ত্রিপুরার কৃষক সমাজ নতুন করে মাঠে নামে নানা রকম শাক-সবজি ও ফলমূল চাষে। তবে এবারের বর্ষা যেন বিশেষভাবে আলোকপাত করছে একটি নির্দিষ্ট ফলের ওপর, আর সেটি হল আনারস। তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত চাম্লাই অঞ্চলের কৃষকরা এ বছর আনারস চাষে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লাভজনক বাজার মূল্য এবং কম পরিশ্রমে তুলনামূলক ভাল ফলনের সম্ভাবনা।
এই প্রসঙ্গে আমাদের প্রতিনিধির গন্তব্য ছিল ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাম্লাই ৩৪ মাইল এলাকার কৃষিজমিতে, যেখানে কৃষক দিলীপ দেববর্মা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন আনারস চাষ নিয়ে।
মাঠ ঘুরে দেখা যায়, দিলীপ বাবু তাঁর কৃষিজমিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি নিজ উদ্যোগে এবং নিজ অর্থ বিনিয়োগ করে আনারস চাষ শুরু করেছেন। দিলীপ বাবু জানান, তিনি ৮২ মাইল এলাকা থেকে প্রায় ৮০০টি আনারসের চারা সংগ্রহ করে নিজ জমিতে চাষ শুরু করেন। এই চাষের প্রথম পর্যায়েই তিনি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার লাভ করেছেন বলে দাবি করেন।
তাঁর কথায়, “এই চাষ পুরোপুরি আমি নিজ খরচে করছি। এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। যদি সরকার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আগামীতে আনারস চাষের পরিসর আরও বাড়াতে পারব।”
দিলীপ বাবুর মতন অনেক কৃষকই আজ চাম্লাই অঞ্চলে বিকল্প কৃষি উদ্যোগের খোঁজে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে আসছেন। আনারস চাষ এখানে শুধু কৃষকদের জন্য একটি নতুন পথ দেখাচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও এটি হতে পারে একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তি।
সরকার যদি সময়মতো এই ধরনের কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করে, তাহলে আগামী দিনে তেলিয়ামুড়ার মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে খুব বেশি দেরি হবে না।








