“ব্রিজ নয়, লোহার পাতই ভরসা! বর্ষায় জল ঠেলে পথ চলছে কৈলাসহরের বাঘাছড়া গ্রামের মানুষ”
কৈলাসহর, গৌরনগর ব্লক: ত্রিপুরার উত্তর জেলার গৌরনগর ব্লকের অন্তর্গত দেওরাছড়া এডিসি ভিলেজের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাঘাছড়া গ্রামে সাধারণ মানুষের জীবন আজ যেন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে ঢোকার একমাত্র ইট সলিং রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়ে গেছে, যার ফলে রাস্তাটি এখন কার্যত এক ‘মরণ ফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। আর এই রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা বাঘা ছড়া নালার উপর নেই কোনো কালভার্ট, নেই কোনো স্টিল বা কাঠের ব্রিজ – এমনকি নেই অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোও। ফলে ছড়ার পূর্বপ্রান্তে বসবাসকারী আট থেকে দশটি কৃষিজীবী পরিবার প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক টুকরো লোহার পাতের উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। শুকনো মরশুমে যেখানে এই পাত দিয়েই কোনোমতে যাতায়াত সম্ভব, বর্ষার মরশুমে তা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত জলস্রোতে লোহার পাত ভেসে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই জলের মধ্যে হেঁটেই পার হতে হচ্ছে ছড়াটি। এই এলাকায় বসবাসরত গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা মৌখিক ও লিখিতভাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ত আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। বাঘা ছড়ার পূর্ব প্রান্তের মানুষেরা মূল গ্রামের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত এই ছড়া পার হচ্ছেন—কখনো জলের তোড়ে ভিজে কাপড়ে, কখনো বা কাদামাটিতে হোঁচট খেতে খেতে। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা জল ঠেলে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন; অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কয়েকজন মিলে তাকে মাথায় তুলে এই ছড়া পার করিয়ে রাস্তায় গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হচ্ছে। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “এটা কেমন সমাজ? যেখানে ২০২৫ সালে এসেও আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য জল কাঁপিয়ে যেতে হয়? মহিলারা কাপড় তুলে জলের মধ্যে দিয়ে হাঁটেন। এটা দেখতেও খারাপ লাগে, ভাবতেও লজ্জা হয়।” সম্প্রতি গৌরনগর ব্লকের বিডিও গ্রাম পরিদর্শনে এসে পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীরা। বর্তমানে গ্রামবাসীরা জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন—অবিলম্বে বাঘা ছড়া নালার উপর একটি স্থায়ী কালভার্ট অথবা স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। তারা জানিয়েছেন, যদি শীঘ্রই উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন।এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন অবশেষে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার দিকে গুরুত্ব দেয় কি না, নাকি গ্রামের মানুষদের এমন অমানবিক দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।








