বক্সনগর বিধানসভায় রাজনৈতিক পালাবদল; ত্রিপুরা কংগ্রেসে ভরসা রেখে একাধিক পরিবার যোগদান করল।
আগরতলা, ত্রিপুরা, ১৫ জুন ২০২৫: ত্রিপুরা রাজনীতিতে ফের দেখা গেল দলবদলের প্রবণতা। আজ বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনায় চমক দেখা গেল—এই কেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছয়টি পরিবারের মোট ৩৭ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস দলে যোগদান করেন। এই যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাড়ম্বর অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি তথা প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা আশীষ কুমার সাহা , যুব নেতা নীল কমল সাহা । কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তিনি নতুন সদস্যদের দলে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের অন্যান্য জেলা ও মন্ডল পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই যোগদানকে “গণতন্ত্রের পক্ষে সদর্থক বার্তা” বলে অভিহিত করেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ আজ যে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, এই যোগদান তারই প্রতিচ্ছবি। মানুষ বিভ্রান্তির রাজনীতি নয়, শান্তি, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। কংগ্রেসই একমাত্র শক্তি যারা জনগণের অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করে চলেছে।” নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন—চাষি, দিনমজুর, গৃহবধূ ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় স্তরে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগ। তাঁরা জানান, কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জনমুখী নীতিমালার প্রতি আস্থা রেখেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Advertisement
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ জানান, দল এই নতুন সদস্যদের সক্রিয় রাজনীতির প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে তাঁরা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বক্সনগর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা বেড়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কংগ্রেসের এই সাফল্য যে তাদের সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করবে, সে বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব আশাবাদী।