আগরতলা, ২৪ মে: ত্রিপুরার সাহিত্য, সমাজ ও রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। আজ আগরতলায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়ক উন্মোচন করা হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের।
এই গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বামফ্রন্টের প্রভাবশালী নেতা শ্রী মানিক সরকার। তাঁর করকমলে উন্মোচন করা হয় —
১) ‘মানুষের সাথে মানুষের পাশে: জীতেন্দ্র চৌধুরী’ — এই গ্রন্থের সম্পাদক ধরিনজয় ত্রিপুরা
২) ‘TRIBE – CLASS LINKAGES’ — এই ইংরেজি গবেষণামূলক সংকলনের সম্পাদক সাকিব খান।
উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের প্রথম সারির নেতৃত্ব — সাবেক মন্ত্রী ও আদিবাসী আন্দোলনের অগ্রণী নেতা নরেশ জমাতিয়া, রাজ্যের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও নেতা রাধাচরণ দেববর্মা, এবং পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য জীতেন্দ্র চৌধুরী নিজে।

- ‘মানুষের সাথে মানুষের পাশে’ গ্রন্থটি মূলত জীতেন্দ্র চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, সমাজসংগ্রামের ইতিহাস, ও তাঁর আদিবাসী সমাজের জন্য নিরলস কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রচিত। সম্পাদক ধরিনজয় ত্রিপুরা দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই গ্রন্থটি গড়ে তুলেছেন, যা রাজনৈতিক জীবনের এক দলিল হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মূল্যবান হয়ে উঠবে।
- অপরদিকে, ‘TRIBE – CLASS LINKAGES’ বইটি এক গভীর সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। ভারত তথা ত্রিপুরার উপজাতি সমাজে শ্রেণি সম্পর্ক, অর্থনৈতিক শোষণ, এবং রাজনৈতিক প্রান্তিকতাকে একাডেমিক কাঠামোয় উপস্থাপন করেছেন সম্পাদক সাকিব খান। এই গ্রন্থে একাধিক প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ যুক্ত হয়েছে যা শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন,
“এই দুইটি বই কেবলমাত্র পৃষ্ঠা আর অক্ষরের সমাহার নয়, বরং সমাজের বাস্তবতাকে তুলে ধরার এক বলিষ্ঠ প্রয়াস। জীতেন্দ্র চৌধুরীর সংগ্রামী জীবনের প্রতিফলন যেমন প্রথম গ্রন্থে পাওয়া যাবে, তেমনি দ্বিতীয় গ্রন্থে রয়েছে আদিবাসী সমাজের শ্রেণিচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ। আজকের তরুণ প্রজন্ম যদি এই বইগুলিকে পাঠ করে, তবে তারা বাস্তব সমাজবিজ্ঞান ও মানুষের রাজনীতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।”
বক্তব্য রাখেন জীতেন্দ্র চৌধুরী নিজেও। তিনি বলেন,
“এই বই আমার নয়, মানুষের কথা বলার এক মাধ্যম। আমাদের রাজনীতি, আন্দোলন, সবকিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য — আর সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন লেখক ও সম্পাদকরা।”
নরেশ জমাতিয়া ও রাধাচরণ দেববর্মাও বই দুটির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, এই ধরনের কাজ ভবিষ্যৎ আদিবাসী নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল সাহিত্যপ্রেমীদের গভীর মনোযোগ, ছাত্র-শিক্ষক সমাজের উপস্থিতি এবং সাংবাদিকদের ব্যাপক কভারেজ। বই উন্মোচনের পর এক খোলা আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ত্রিপুরার বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা, আদিবাসী স্বশাসন, এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে মত বিনিময় হয়।
এই দুটি বই শুধু রাজনৈতিক বা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ইতিহাস ও জনসাধারণের সংগ্রামকে নথিভুক্ত করার দিক থেকে এক মাইলফলক হয়ে উঠবে। ত্রিপুরার বামপন্থী রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি গভীর সাহিত্যিক ও বৌদ্ধিক পদক্ষেপ।








