দক্ষিণ ত্রিপুরা সফরে বন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা; এসএসজি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক, দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস।
শান্তিরবাজার প্রতিনিধি – বাহাদুর ত্রিপুরা; দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার একদিনের সরকারি সফরে এসে বন দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জোলাইবাড়ি বিধানসভা অন্তর্গত সাঁচিরামবাড়ি এলাকার ধনঞ্জয় পার্ক পরিদর্শন করেন। এদিন তিনি সরেজমিনে পার্কের পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।
মন্ত্রী প্রথমে শান্তিরবাজার মহকুমা এলাকায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি জোলাইবাড়ি রেঞ্জের বন বিভাগের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বনসম্পদ সংরক্ষণ, বনভূমি সুরক্ষা এবং ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি জানান, বন দপ্তরের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শহীদ ধনঞ্জয় ত্রিপুরা স্মৃতি ইকো-পার্ক-এর সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। উল্লেখ্য, এই ইকো-পার্কটি ককবরক ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদ ধনঞ্জয় ত্রিপুরার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এবং এটি বর্তমানে দক্ষিণ ত্রিপুরার একটি জনপ্রিয় পর্যটন ও পিকনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পার্কে পর্যটকদের সুবিধার্থে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সৌন্দর্যায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিন তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএসজি) গ্রুপের সদস্যাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। গোষ্ঠীর দিদিরা তাদের প্রয়োজনীয়তা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের দাবিদাওয়া মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “মহিলাদের স্বনির্ভরতা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বনভিত্তিক আয়বর্ধক প্রকল্পগুলিতে আরও সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”
এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ি রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসার, দক্ষিণ জেলার বন বিভাগের আধিকারিকবৃন্দ এবং ধনঞ্জয় পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রীকান্ত দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ।
পরিশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, ধনঞ্জয় পার্ককে একটি মডেল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে এই পার্ককে রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বন দপ্তর নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।







