আরসিসি ট্যাংক, পাম্প হাউজ সবই রয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও অপারেটরের অভাবে আজও পানীয় জল থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।
শান্তিরবাজার , ত্রিপুরা । বাহাদুর ত্রিপুরাঃ উন্নয়নের বহু প্রতিশ্রুতি, সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা পরিকাঠামো—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও আজও পানীয় জলের জন্য হাহাকার শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দেবীপুর এডিসি ভিলেজে। নল রয়েছে, আরসিসি পানীয় জলের ট্যাংক রয়েছে, এমনকি পাম্প হাউজও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ ও অপারেটর নিয়োগের জটিলতায় সেই জল সাধারণ মানুষের মুখে পৌঁছচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এটা কিসের উন্নয়ন?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামে বহু আগে থেকেই পানীয় জলের সমস্যা প্রকট। সেই সমস্যা মেটাতে সরকারিভাবে জলের ট্যাংক ও পাইপলাইন বসানো হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দিনের পর দিন নল খুলে জল না পাওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ন্যূনতম পানীয় জলের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়াকে তারা চরম অবহেলা বলেই মনে করছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা এবং স্থায়ী অপারেটর না থাকার কারণে পুরো প্রকল্পটাই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দূর দূরান্ত থেকে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে আনছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এও জানিয়েছেন, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং-এর উদ্যোগে এই এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান সংকট নিরসনের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের ভরসা এখন বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং-এর ওপরই। দ্রুত পানীয় জল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এলাকার এমডিসির ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখা যায় না, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ শোনার ক্ষেত্রেও তাঁর উপস্থিতি কার্যত অনুপস্থিত। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলি প্রশাসনের উচ্চ স্তরে পৌঁছচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
সব মিলিয়ে দেবীপুর এডিসি ভিলেজের পানীয় জল সংকট আজ উন্নয়নের নামে পরিকাঠামো তৈরির বাস্তব চিত্রকে সামনে এনে দিয়েছে। নল, ট্যাংক ও পাম্প হাউজ থাকলেও যখন জল নেই, তখন উন্নয়ন শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে—এমনটাই মত এলাকাবাসীর।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কবে এই গুরুতর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হন এবং কবে দেবীপুর এডিসি ভিলেজের সাধারণ মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের অধিকার ফিরে পান।








