স্বামীজীর আদর্শ ও জাতীয় যুব দিবসের তাৎপর্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে আগরতলার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা; উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষিকা জয়া দে ও বিশিষ্ট সমাজসেবী সজল সেন।
আগরতলা, ত্রিপুরা । ১২ জানুয়ারী ২০২৬ঃ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬২তম জন্মজয়ন্তী তথা জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে আজ উৎসবের আমেজ ছিল আগরতলার রামনগর এলাকায়। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং আজকের দিনে যুব সমাজের করণীয় সম্পর্কে বার্তা দিতে রাস্তায় নামলো ত্রিপুরেশ্বরী শিশু মন্দিরের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

আজ সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে এক সুসজ্জিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়া থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ ছাত্রছাত্রীরা স্বামীজীর বাণী সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এই র্যালিতে অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে রামনগর এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে। এলাকার সাধারণ মানুষের সামনে যুব দিবসের মাহাত্ম্য তুলে ধরাই ছিল এই পরিক্রমার মূল উদ্দেশ্য।
এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরেশ্বরী শিশু মন্দিরের সম্মানীয় প্রিন্সিপাল জয়া দে এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী সজল সেন মহাশয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালন সমিতির সদস্যরা এই শোভাযাত্রায় পা মেলান। পথ পরিক্রমা চলাকালীন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়া দে এবং অতিথি সজল সেন।
তাঁরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন অনন্ত যুব শক্তির উৎস। তাঁর দেখানো পথেই যাতে আগামীদিনের ভারত গড়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। তাঁরা ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৮৪ সালে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল যে স্বামীজীর জন্মদিনটিকে জাতীয় স্তরে যুব দিবস হিসেবে পালন করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি তারিখটি সারা ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উদ্যোক্তারা আরও জানান, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। চরিত্র গঠন এবং দেশমাতার সেবায় ব্রতী হওয়ার যে মন্ত্র স্বামীজী দিয়েছিলেন, তা ছাত্রছাত্রীদের মনে গেঁথে দেওয়াই ত্রিপুরেশ্বরী শিশু মন্দিরের লক্ষ্য। আজকের এই শোভাযাত্রা পথচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ সাড়া জাগায়। পরিশেষে বলা যায়, স্বামীজীর চিন্তাধারাকে এভাবেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সমাপ্ত হয় আজকের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।








