রাতের টহলে সন্দেহজনক চলাফেরা; কাঁটাতার পেরোতেই আটক ২৪ বছরের আবু হোসেন। বাড়ছে নজরদারি, সজাগ খোয়াই থানা।
খোয়াই, ত্রিপুরা । রিপোর্ট-কালীদাস ভৌমিকঃ ত্রিপুরার খোয়াই জেলার পহরমুড়া সীমান্ত এলাকা আবারও আলোচনায়। সোমবার গভীর রাতে নিয়মিত টহলদারির সময় ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এক যুবককে। বিষয়টি নজরে আসতেই গৌরনগর বিএসএফ ১০৪ ব্যাটালিয়নের সি কোম্পানির টহলরত জওয়ানরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক যুবক বাংলাদেশের নাগরিক।
বিএসএফের টহলরত সদস্যদের দাবি, ওই যুবক স্পষ্টতই জোর করে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর গতিবিধি স্বাভাবিক ছিল না—ফলে সন্দেহ বাড়তেই তাঁকে ধরা হয়। আটকের পর দায়িত্বশীল টহল টিম বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট কমান্ডার এবং কোম্পানি কমান্ডার সূর্যভান সিংকে অবহিত করে। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে খোয়াই থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আবু হোসেন (২৪)। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ শহিদুল খান। বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার নলবুনিয়া গ্রামে, ডাকঘর নলবুনিয়া এবং থানা রহানদাথানা।
বিএসএফ জানায়, আটক যুবকের কাছে পাওয়া গেছে একটি বড় ট্রলি ব্যাগ, একটি হাতব্যাগ এবং ওপ্পো ও রেডমি ব্র্যান্ডের দুটি মোবাইল ফোন—যা তাঁর উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আবু হোসেন গত ৭ বছর ধরে ভারতের বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় দালাল চক্রের হৃদয় নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি নাকি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করতেন। এই দালালচক্র সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় থাকার প্রমাণ মিলছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ সূত্র।
খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানান, সীমান্তে যে কোনও ধরনের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে বৃহৎ পরিসরে অভিযান ইতিমধ্যেই চালানো হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনাটি শুধুই এক তরুণের সীমান্ত পারাপারের বিষয় নয়; বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দালাল চক্রের সক্রিয়তার দিকেও নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রশাসন মনে করছে—এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।








