ওসি রাজু দত্ত ও এসআই সমীর বিশ্বাসের উদ্যোগে চারটি বিভাগে ১৫০-র বেশি শিশুর অংশগ্রহণ; পূজা উপলক্ষে আরও একাধিক সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ।
শান্তির বাজার, ত্রিপুরা । রিপোর্টঃ বাহদুর ত্রিপুরাঃ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দিতে শান্তির বাজার থানার পুলিশ কর্মীরা প্রতি বছরই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও শ্যামা মায়ের আরাধনা উপলক্ষে থানার আরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূজার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। পূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, যারই অঙ্গ হিসেবে রবিবার থানার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা।
শান্তির বাজার থানার ওসি রাজু দত্ত ও এসআই সমীর বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই সমাজমুখী কাজের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য নানা কর্মসূচি হাতে নিয়ে আসছেন। তাঁদের সেই উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এদিনের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা যেন শিশুদের কাছে হয়ে ওঠে আনন্দ, উৎসব ও সৃজনশীলতার এক মিলন ক্ষেত্র।
প্রতিযোগিতাটি মোট চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বয়সভেদে শিশুদের আলাদা করে ভাগ করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ১৫০-র বেশি শিশু এই প্রতিযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। ছোটদের রঙ-তুলির ছোঁয়ায় থানার চত্বর একেবারে রঙিন উৎসবের আবহ ধারণ করে।
আজকের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওসি রাজু দত্ত জানান—
“শ্যামা মায়ের পূজাকে কেন্দ্র করে শুধু পূজা নয়, আমরা চাই সমাজের প্রতি দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হোক। তাই বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ছাড়াও স্বচ্ছ ভারত অভিযান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের সংবর্ধনা, পৌরপরিষদের সাফাইকর্মীদের সম্মাননা— এই সমস্ত কর্মসূচি আগামী দিনে অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও জানান, বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পূজার দিন রাতে পুরস্কৃত করা হবে। এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের সৃষ্টিশীলতাকে আরও উজ্জীবিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ কর্মী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকলে একবাক্যে জানিয়েছেন, থানার এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজকে আরও সুসংহত ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওসি রাজু দত্ত ও এসআই সমীর বিশ্বাসের এই প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান বহু মানুষ।
শ্যামা মায়ের পূজা আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে এমন সামাজিক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে মানবিক মূল্যবোধকে আরও বিস্তৃত করে তুলছে— এমনই মত স্থানীয় বাসিন্দাদের।








