রাতের আঁধারে খাবার বিলি থেকে পূজোয় জামা-কাপড় বিতরণ — নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট সুদীপ, পাশে জনপ্রিয় ইউটিউবার সুপম পাম্পা ভ্লগ।
ত্রিপুরা, ৩০ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার বুকে আশার আলো ছড়াচ্ছে একদল তরুণ-তরুণী — নাম তাঁদের ‘ত্রিপুরা ইউথ ব্রিগেড’। সমাজের অবহেলিত, পথের ধারে থাকা মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে গত ৮ মাস ধরে লাগাতার কাজ করে চলেছে এই সংগঠনটি। আর এই মহৎ প্রচেষ্টার নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুদীপ, যাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও মানবিক চেতনা আজ অনেকের অনুপ্রেরণা।
প্রতিদিনের মতো এই ব্রিগেডের সদস্যরা রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়েন হাতে খাবার, পানীয় জল, আর ছোট ছোট শিশুদের জন্য বিস্কিট ও কেক নিয়ে। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য — “কোনো মানুষ যেন না খেয়ে ঘুমাতে না যায়।” এই ব্রিগেড শুধু খাবার বিলিতেই থেমে থাকেনি, বরং শীত-গ্রীষ্ম বর্ষা উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক উজ্জ্বল সামাজিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর, দুর্গাপূজার প্রাক্কালে সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে শতাধিক গরিব মানুষের হাতে নতুন জামা-কাপড়, ১০০-র বেশি খাবারের প্যাকেট, পানীয় জল, এবং শিশুদের জন্য চকলেট বিতরণ করা হয়। পূজোর আনন্দ যে শুধুই বিত্তবানদের জন্য নয়, তা যেন প্রমাণ করে দিল ত্রিপুরা ইউথ ব্রিগেড।
এই মানবিক অভিযানে এবার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার Supam Pampa Vlog। শুধুমাত্র খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ নয়, তিনি বর্তমানে শিশুদের মধ্যে নেশার কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজ-ও করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সংগঠনের সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করেছে।
ত্রিপুরা ইউথ ব্রিগেড শুধুমাত্র এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে থেমে নেই। তাঁরা নিয়মিত রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ও বয়স্কদের সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের প্রতিটি সদস্য যেন মানবতার এক এক বাহক।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুদীপ বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য, রাস্তায় পড়ে থাকা কোনো গরিব মানুষ যেন অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় না মারা যায়। যতটুকু পারি, আমরা ওদের পাশে থাকব। সমাজের প্রতিটি মানুষই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে একদিন এ রাজ্য হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত।”
এই ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় — এখনও সমাজে ভালো মানুষ আছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করে চলেছেন।
ত্রিপুরা ইউথ ব্রিগেডের এই অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলবে।








