চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ, ৯ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যুতে উত্তাল বাইখোরা, শোকের ছায়া চরকবাই এলাকায়।
বিলোনিয়া, ১৮ই আগস্ট, ২০২৫: ত্রিপুরার বাইখোরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে অস্মি মজুমদার নামে এক ৯ বছরের শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।[1][2] এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা চরকবাই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।[1]
রবিবার রাত আনুমানিক দশটা নাগাদ, চরকবাই মধ্যপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জীব মজুমদারের মেয়ে অস্মি মজুমদারকে বিষাক্ত কিছু কামড়ানোর সন্দেহে বাইখোরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।[2] সেই সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিক।[2] অস্মির পরিবারের অভিযোগ, তারা চিকিৎসককে বিষাক্ত কিছু কামড়ানোর কথা জানালেও তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।[1]
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাঃ ভৌমিক প্রেসক্রিপশনে WBCT রক্ত পরীক্ষার কথা লিখলেও, হাসপাতালে সেই পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।[1][2] আশ্চর্যজনকভাবে, অস্মিকে হাসপাতালে ভর্তি না রেখে বা উচ্চতর চিকিৎসার জন্য শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার না করে, তিনটি ইনজেকশন দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।[1][2]
বাড়িতে আনার পর অস্মির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং তার শরীরের রঙ পাল্টাতে থাকে।[1][2] আতঙ্কিত পরিবার তাকে পুনরায় বাইখোরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসে।[2] তখন চাপের মুখে ডাঃ ভৌমিক অস্মিকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।[1]
শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে অস্মির শরীরে বিষ প্রবেশ করেছে এবং তা রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।[1] সেখানকার চিকিৎসকরা অ্যান্টি-ভেনম দিয়ে জিবি হাসপাতালে রেফার করলেও, শেষরক্ষা হয়নি। জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অস্মি।[1]
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, ডাঃ শুভ্রজ্যোতি মজুমদারের സ്ഥান্তরের পর থেকেই বাইখোরা হাসপাতালটির পরিষেবার মান তলানিতে ঠেকেছে।[1] বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হাসপাতালটি অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে বলে অভিযোগ।[1] এছাড়াও, হাসপাতালের নার্সদের বিরুদ্ধেও রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।[1]
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিলোনিয়া সদর দপ্তরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) জ্যোতির্ময় দাস এই বাইখোরা হাসপাতালের কোয়ার্টারেই বসবাস করেন।[1] একজন উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য আধিকারিকের নাকের ডগায় থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের এই বেহাল দশা এবং চিকিৎসকের এমন মারাত্মক গাফিলতির ঘটনায় হতবাক এলাকার মানুষ। অস্মির অকালমৃত্যুতে গোটা চরকবাই এলাকা শোকস্তব্ধ এবং দায়ী চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সকলে।








