আগরতলা, ১৫ই আগস্ট: ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে “লংতরাই” এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যা শুধুমাত্র উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের এক গভীর প্রকাশে পরিণত হয়েছে। সংস্থার প্রধান কার্যালয় ও কারখানা, আর. কে. নগর, আগরতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় “লংতরাই”-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী রতন দেবনাথের হাত ধরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এই মুহূর্তটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগণিত সংগ্রামী, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য ছিল। শ্রী দেবনাথ তার ভাষণে বলেন, “দুই শতকের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে যারা আমাদের এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের অবদান ভোলার নয়। তাদের সাহস, প্রত্যয় ও ত্যাগকে স্মরণ করাই এই উদযাপনের মূল লক্ষ্য।”
শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণই নয়, এই দিনের অনুষ্ঠানে সমাজের সেইসব নেপথ্যের নায়কদেরও সম্মান জানানো হয়, যারা প্রতিনিয়ত দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। এই উপলক্ষে বোধজংনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্রী প্রশান্ত দে, পরবর্তী অফিসার ইনচার্জ শ্রী কমলকান্ত জমাতিয়া, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর শ্রী পিন্টু বিশ্বাস, শ্রী নেপাল চন্দ্র দাস এবং শ্রী মানিক কর-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে “লংতরাই”-এর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে খাকি ইউনিফর্ম তুলে দেন শ্রী রতন দেবনাথ।
অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের, যাদের শ্রী দেবনাথ দেশের ভবিষ্যৎ বলে অভিহিত করেন। তাদের সাথে সময় কাটিয়ে তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” এই আয়োজন “লংতরাই”-এর স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক অঙ্গীকারের উজ্জ্বল প্রমাণ।
দেশপ্রেমের এই বার্তা শুধুমাত্র আগরতলার প্রধান কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। “লংতরাই”-এর উদয়পুর (ধানকল), কলকাতা (লংতরাই ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড প্রধান কার্যালয়), ধলাই (চা কারখানা) এবং উত্তরবঙ্গ সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমস্ত কর্মস্থলেও একই উদ্দীপনার সাথে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। এই ঐক্যবদ্ধ উদযাপন প্রমাণ করে যে “লংতরাই” কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এক সামাজিক অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের প্রতীক।








