তেলিয়ামুড়া, ১১ই আগস্ট, ২০২৫: উৎসবের দিন মানেই ছুটির আমেজ আর পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু এমন দিনেও যারা নিজেদের পরিবার ছেড়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে অবিচল থাকেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ‘তেলিয়ামুড়া ভলেন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। আজ পবিত্র রাখি বন্ধন উৎসব উপলক্ষে সংস্থার সদস্যরা তেলিয়ামুড়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে কর্তব্যরত আধিকারিক, কর্মী এবং জওয়ানদের হাতে রাখি পরিয়ে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেন।
সকাল থেকেই সংস্থার সদস্যদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। হাতে রাখি, চন্দনের বাটি ও মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে তারা প্রথমে উপস্থিত হন তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক কার্যালয়ে। সেখানে মহকুমা শাসকের পাশাপাশি অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদের হাতে রাখি বেঁধে তাদের দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন। এরপর তাদের এই ভালোবাসার যাত্রা এগিয়ে চলে টি.এস.আর ১২ ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্পের দিকে। দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত অতন্দ্র প্রহরী জওয়ানদের হাতে রাখি পরানোর সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। জওয়ানরাও এই অপ্রত্যাশিত সম্মান পেয়ে আপ্লুত হন।
সেখান থেকে বেরিয়ে সংস্থার সদস্যরা একে একে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কার্যালয়, তেলিয়ামুড়া থানা এবং দমকল কেন্দ্রে (ফায়ার সার্ভিস) যান। আইনের রক্ষক পুলিশ কর্মী থেকে শুরু করে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করা দমকল কর্মীদের হাতে রাখি পরিয়ে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, সমাজ তাদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সবশেষে তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদ কার্যালয়ে গিয়েও এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এই মহতী কর্মসূচির পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন ‘তেলিয়ামুড়া ভলেন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক শ্রী মৃন্ময় রায়, সহ-সম্পাদক শ্রী সৌরভ পাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ শ্রী সৌরভ সাহা সহ অন্যান্য উদ্যমী সদস্যরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংস্থার সম্পাদক মৃন্ময় রায় বলেন, “রাখি বন্ধন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বিশ্বাস, ভরসা ও সুরক্ষার প্রতীক। আমাদের শহরের সুরক্ষায় এবং প্রশাসনে যাঁরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। তেলিয়ামুড়া ভলেন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অতীতেও মহকুমার মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের এই সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।”
সংস্থার এই উদ্যোগে আপ্লুত হন সরকারি আধিকারিক ও কর্মীরা। তারা জানান, ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝে এই ধরনের সামাজিক স্বীকৃতি তাদের মনোবলকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এই অনুষ্ঠানটি নিছকই একটি রাখি পরানোর কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি হয়ে উঠেছিল প্রশাসন, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অসাধারণ সেতুবন্ধন। তেলিয়ামুড়া ভলেন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ইতিবাচক মানসিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করলে সমাজে সম্প্রীতির বাতাবরণ আরও সুদৃঢ় হয়।








