খোয়াই, ১১ই আগস্ট, ২০২৫: লাগাতার সমালোচনা, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় এবং সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হওয়ার পর অবশেষে ঘুম ভাঙল জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের। নির্মাণের মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে খোয়াই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের যে হাড্ডি-কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে আজ দুপুরে খোয়াইয়ে এসে পৌঁছালেন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। রাজ্য সরকারের নির্দেশে, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের সচিব সশরীরে এই বেহাল সড়ক পরিদর্শন করেন, যা দুর্ভোগে জর্জরিত সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।
আজ দুপুর নাগাদ NHIDCL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডক্টর কিষান কুমার এবং রাজ্যের পূর্ত সচিব শ্রী কিরণ গিত্যে খোয়াইয়ে এসে উপস্থিত হন। তাদের সাথে ছিলেন পূর্ত দপ্তরের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার এবং জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা NHIDCL-এর আধিকারিকগণ। প্রতিনিধি দলটি প্রথমে ২০৮ নং খোয়াই-কমলপুর জাতীয় সড়ক এবং পরবর্তীকালে ১০৮ নং খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়কের একাধিক স্থান পরিদর্শন করেন। চোখের সামনে সড়কের এই মারাত্মক ভগ্নদশা দেখে কার্যত বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা। যে সড়ক মাত্র বছর দেড়েক আগে মসৃণ ছিল, আজ তার পুরোটা জুড়েই তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ এবং মারণফাঁদের মতো গভীর গর্ত। সড়কের পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ভেতরের কংক্রিট ও পাথরের কঙ্কাল।
সড়কের জীর্ণদশা পরিদর্শন শেষে সেখানে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পূর্ত দপ্তরের সচিব শ্রী কিরণ গিত্যে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশেই আমরা আজ জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছি। সড়কের যা অবস্থা, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রায় দুই মাস আগেও একটি কেন্দ্রীয় দল এই সড়ক পরিদর্শন করে গিয়েছিল। আজকের পরিদর্শনের পর NHIDCL-এর আধিকারিকদের অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রী গিত্যে বলেন, “আমরা NHIDCL-কে নির্দেশ দিয়েছি যাতে কোনো রকম বিলম্ব না করে সর্বোচ্চ দ্রুততার সাথে এই সড়ক দুটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করা হয়। মেরামতির কাজে যাতে কোনো গাফিলতি না থাকে, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এই দুটি জাতীয় সড়ক খোয়াই জেলার মানুষের জন্য লাইফলাইন স্বরূপ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং পণ্যবাহী গাড়ি এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সড়কের বেহাল দশার কারণে একদিকে যেমন যাত্রার সময় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, তেমনই প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি তো এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বারবার প্রশাসন ও নির্মাণকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেও এতদিন তা নিষ্ফল ছিল। অবশেষে সরকারের শীর্ষস্তর থেকে এই হস্তক্ষেপের পর এবার হয়তো তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন খোয়াইবাসী। এখন দেখার বিষয়, উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শনের পর মেরামতির কাজ কবে শুরু হয় এবং তার গুণমান কতটা বজায় থাকে।








