জোলাইবাড়ি থেকে বাহাদুর ত্রিপুরার রিপোর্ট: ত্রিপুরার দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যতন বাড়ি থেকে করবুক, আইলমারা এবং সিলাছাড়ি হয়ে গোরাকাপ্পা পর্যন্ত বিস্তৃত, বর্তমানে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম (NHIDCL) এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণ সংস্থার চূড়ান্ত অবহেলার কারণে এই রাস্তার সংস্কার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গর্ত এবং খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় নিত্যযাত্রী এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কাদা, জল এবং পিচ্ছিল রাস্তার কারণে মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি অর্থবছর রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসলেও সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এই দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে অবশেষে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তাদের স্পষ্ট বার্তা, “আমরা রাস্তাঘাট চাই, আর দুঃখ-দুর্ভোগ চাই না।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই রাস্তাটি জাতীয় সড়ক ২০৮ (NH 208)-এর অংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে এনএইচআইডিসিএল (NHIDCL) এই সড়কের আমarpur টিএসআর ক্যাম্প থেকে যতনবাড়ি পর্যন্ত ১৪.৪ কিলোমিটার রাস্তা শক্তিশালী করার জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করেছিল।[1] সেই দরপত্রের প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে যোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়।[2] তবে, চূড়ান্তভাবে কোন সংস্থাকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কাজের বর্তমান অবস্থা কী, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ত্রিপুরার অন্যান্য অঞ্চলেও জাতীয় সড়কের বেহাল দশা এবং নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি রাজ্যের জাতীয় সড়ক ২০৮-এর একটি নবনির্মিত অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেন্ট্রাল রোড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CRRI)-কে দিয়ে তদন্ত করানো হচ্ছে।[3] যদিও সরকারি আধিকারিকদের দাবি, সময় সমস্ত নিয়মকানুন মেনে চলা হয়েছিল।[3]
এই পরিস্থিতিতে, যতন বাড়ি-গোরাকাপ্পা রাস্তার বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর কতটা প্রভাব ফেলে এবং কত দ্রুত তারা রাস্তার সংস্কারের কাজে হাত দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








