মমতা সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী—২০২৬-এ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতার”
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ । ৫ আগস্ট ২০২৫ । নিউজ ডেস্কঃ কোচবিহারে বিজেপি কর্মীদের উপর তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের লাগাতার সন্ত্রাসী হামলা এক ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই বিজেপির একাধিক কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের এই সন্ত্রাস থেমে থাকছে না সাধারণ কর্মীদের উপরেই নয়—এবার তাদের নিশানায় এসেছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও।

সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনায়, বিজেপি বিধায়ক শ্রী সুশীল বর্মন, শ্রী নিখিল রঞ্জন দে এবং শ্রী বরেন বর্মনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তাদের উপর এই ন্যক্কারজনক আক্রমণ রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিক হতাশা ও দিশাহীনতারই পরিচায়ক বলে অভিযোগ বিজেপির।
আজকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে বিজেপি নেতৃবৃন্দের তরফে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ যাত্রাপথে ফের ঘটল নারকীয় আক্রমণ।

কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি মোড়ে, রাজ্য প্রশাসনের পূর্ণ জ্ঞাতসারে, তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যে বাঁশ, লাঠি এবং রড নিয়ে বিজেপি কনভয় এবং গাড়িগুলির উপর হামলা চালায়। আমার নিজের গাড়ির উপরও চরমভাবে হামলা হয়। শুধু তাই নয়, কনভয়ের একাধিক গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়, নেতাকর্মীরা আহত হন, এবং ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ প্রশাসন কার্যত নির্বিকার ভূমিকা পালন করে।
এই ধারাবাহিক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দুটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে:
1️⃣ প্রথমত, কোচবিহার সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
2️⃣ দ্বিতীয়ত, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখন কেবল হিংসা এবং ভয়ের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে। এই হিংসাত্মক পন্থা সরকারের চরম রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

এই প্রসঙ্গে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—একদিন আমি সিপিএম-এর হার্মাদ বাহিনী ও জঙ্গলমহলের মাওবাদীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছি। তারা আমাকে আটকাতে পারেনি। আজকের তৃণমূলের এসব গুন্ডাবাহিনী তাদের তুলনায় শুধুই দুগ্ধপোষ্য শিশু।
আমাকে ভয় দেখিয়ে, হামলা চালিয়ে, কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আটকানো যাবে না। বিজেপিও তার গণতান্ত্রিক পথ থেকে এক ইঞ্চি নড়বে না। রাজ্যের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনে এই অগণতান্ত্রিক সরকারকে আমরা শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরাবো—এই বিশ্বাসেই আমরা এগিয়ে চলেছি।








