রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যৌথ উদ্যোগে কৃষি সহায়তা! বিরোধীদের সমালোচনার পাল্টা জবাব উদ্বোধনী সভায়।
শান্তিরবাজার প্রতিনিধি: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। কিছুটা দেরি হলেও সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হল দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার জোলাইবাড়িতে। ভারতীয় খাদ্য নিগম (FCI) এবং ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে চালু হল ধান ক্রয় কেন্দ্র, যার মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
বর্ষার প্রাক্কালে এই উদ্যোগ কৃষকদের কাছে যেন এক প্রকার আশার আলো। যদিও অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই অর্থসঙ্কটের কারণে তাদের ফসল সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, তবুও একাংশ কৃষক ঘরে ধান মজুদ করে রেখেছিলেন, সেই ধানই তাঁরা আজ বিক্রি করতে নিয়ে আসেন জোলাইবাড়ি মোটর স্ট্যান্ডে বসা সরকারি হাটে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক মনোজ কুমার সাহা। উদ্বোধনের পূর্বে কৃষকদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ি ব্লক চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, সহ একাধিক স্থানীয় নেতৃত্ব ও সরকারি কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় ব্লক চেয়ারম্যান তাপস দত্ত বলেন,
“কিছুটা দেরি হলেও ধৈর্য ধরেছেন আপনারা, সেটাই একজন প্রকৃত কৃষকের পরিচয়। বিরোধী দলের কথায় কান না দিয়ে আপনারা বাস্তবটাই দেখুন। আগের সরকার কৃষকদের সহায়ক মূল্যে ধান কেনার মতো কোনও উদ্যোগ নেয়নি। অথচ বর্তমান সরকার কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আজকের দিনে কৃষকদের জন্য পাওয়ার টিলার, আধুনিক যন্ত্রপাতি, নানা রকম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা পূর্বতন সরকারের আমলে কখনও দেখা যায়নি। সরকার এখন আগের থেকে অনেক বেশি সক্রিয়, আপনাদের সহযোগিতা থাকলে উৎপাদন আরও ভালো হবে।”
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কৃষিনীতি এবং রাজ্য সরকারের যৌথ প্রয়াসের প্রশংসাও উঠে আসে। কৃষকদের উদ্দেশ্যে একাধিক আশ্বাসও দেওয়া হয় ভবিষ্যতে আরও সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার।
অন্যদিকে, জোলাইবাড়ি হাটে যে আবহ তৈরি হয়, তা ছিল ব্যতিক্রমী। উপস্থিত কৃষকরা আশ্বস্ত হন সরকার সরাসরি ধান কিনছে দেখে। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং মূল্য ঠিক করার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া কৃষকদের মধ্যে স্বস্তির বার্তা পৌঁছে দেয়।








