মহুরীপুর আর. এফ. মধুলা সদ্দাপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চরম অনিয়ম, প্রশ্ন উঠেছে চাল ও উপস্থিতি খাতার স্বচ্ছতা নিয়ে
জোলাইবাড়ি, আগরতলা: ত্রিপুরার জোলাইবাড়ি অন্তর্গত মহুরীপুর আর. এফ. মধুলা সদ্দাপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঘিরে উঠে এসেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু থাকার কথা, সেখানে এই কেন্দ্রটি প্রতিদিন খোলে সকাল ৯টায় এবং বন্ধ হয়ে যায় মাত্র এক ঘণ্টার মাথায়, সকাল ১০টার মধ্যেই।

এখানেই শেষ নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কেন্দ্রে বহুদিন ধরেই কোনও ছাত্রছাত্রী আসে না। অথচ প্রতিদিনের উপস্থিতির খাতায় সকলের নামের পাশে ‘প্রেজেন্ট’ লেখা হচ্ছে। এমনকি রান্নাও হয় না নিয়মমাফিক, অথচ চালের হিসেব নেই! কোথায় যাচ্ছে শিশুদের জন্য বরাদ্দ চাল? তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রায়শই মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি কর্মঘণ্টায় মোবাইলে প্রেমালাপে মগ্ন থাকেন। এর ফলে কেন্দ্রের শিশুদের প্রতি কোনো নজরদারি থাকে না। শিশুরা অনুপস্থিত থাকলেও চালের বন্টন সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখানো হচ্ছে সম্পূর্ণ উপস্থিতি এবং সম্পূর্ণ চাল বিতরণ।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন,
“আমরা বুঝি না, শিশু আসেও না, রান্নাও হয় না, অথচ চাল কোথায় যায়? প্রতিদিন প্রেজেন্ট কীভাবে দেখানো হয়? এটা তদন্ত করা উচিত।”
এখানকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলো শিশুদের পুষ্টি ও প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হওয়ার কথা, অথচ এমন অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি চরম অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।
প্রশাসন এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সমাজকর্মীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।








