সোনাপুরে তল্লাশিতে চাঞ্চল্যকর উদ্ধার: আলমারি থেকে বের হল হাতির দাঁত! বন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা । ৩ আগস্ট ২০২৫ঃ ত্রিপুরার কৈলাসহর মহকুমায় বনদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ফাঁস হল একটি চোরাচালান চক্রের চাঞ্চল্যকর কাহিনি। সোনাপুর এলাকার এক গৃহবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হল তিনটি দুষ্প্রাপ্য হাতির দাঁত। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য কোটি টাকারও বেশি — এমনটাই আশঙ্কা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ঘটনাটি ঘটে উনকোটি জেলার গৌরনগর ব্লকের অন্তর্গত খাওরা বিল গ্রাম পঞ্চায়েতের অরবিন্দ নগর, সোনাপুর এলাকায়। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে, কৈলাসহরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল অভিযুক্ত মায়ুব আলীর বাড়িতে হঠাৎ হানা দেয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল — ওই বাড়িতে নেশাজাতীয় দ্রব্য মজুত রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন বাড়ির একটি কাঠের আলমারিতে তিনটি বিশাল আকারের হাতির দাঁত খুঁজে পায় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করে পুলিশ, এবং তৎক্ষণাৎ বনদপ্তরকে খবর পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনদপ্তরের একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন রেঞ্জ অফিসার শুভঙ্কর বিশ্বাস। দলটি দাঁতগুলি সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করে বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যায়। আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দাঁতগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে, যাতে নিশ্চিতভাবে জানা যায় সেগুলি প্রকৃত হাতির দাঁত কিনা এবং কোন উৎস থেকে এসেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাড়ির মালিক মায়ুব আলী বর্তমানে পলাতক। তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে ধরার জন্য বিস্তৃত অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে, এবং তার ফোন রেকর্ড, সম্ভাব্য যোগাযোগ ও চলাফেরা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেঞ্জ অফিসার শুভঙ্কর বিশ্বাস স্পষ্টভাবে জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইন অনুযায়ী কড়া শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেআইনি ভাবে বন্যপ্রাণীর অঙ্গ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তাতে জেল ও জরিমানার সম্ভাবনা প্রবল।
এই ঘটনা সামনে আসতেই গোটা সোনাপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে, তারা জানতে চাইছে — কীভাবে এমন দুষ্প্রাপ্য প্রাণীর অঙ্গ সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে লুকানো ছিল? কারা এই পাচার চক্রের পেছনে রয়েছে?
বন ও পুলিশ প্রশাসন এই অভিযানকে একটি বড় সফলতা হিসেবে দেখছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঘটনার জেরে আরও বড় চক্রের হদিস মিলতে পারে এবং ত্রিপুরা জুড়ে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে নতুন করে অভিযান শুরু হবে।








