নাবালিকাদের ওপর পারিবারিক সহিংসতা! আশ্রয়হীন মেয়েদের হাসপাতালে খুঁজে পেল প্রশাসন।
বিশালগড়, ত্রিপুরা । ৩ আগস্ট । রিপোর্ট- বাহাদুর ত্রিপুরাঃ এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী রইল ত্রিপুরার বিশালগড় মহকুমা। শুধুমাত্র বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বাবা-মায়ের হাতে চরম অত্যাচারের শিকার হতে হলো দুটি নাবালিকা মেয়েকে। এ যেন সভ্যতার মুখে এক কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।
ঘটনাটি শুরু হয় যখন মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় তার পরিবার। কিন্তু মেয়েটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, শুরু হয় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ, তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ঘরবন্দি করে রাখা হয় দিনের পর দিন।
একপর্যায়ে, কোনওরকমে সেই নাবালিকা নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ঠাঁই নেয় তার ঠাকুমার বাড়িতে। পরবর্তীতে, অসুস্থ হয়ে পড়ে সে এবং তার ছোট বোন। পরিবার থেকে নির্যাতিত এই দুই বোনকে অবশেষে আশ্রয় মেলে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে। শারীরিকভাবে ভগ্নপ্রায়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত — এই দুই কিশোরীর চোখে মুখে শুধুই আতঙ্ক, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।
শনিবার দুপুরে ত্রিপুরা চাইল্ড রাইটস কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা নিজে ছুটে আসেন বিশালগড় হাসপাতালে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের কর্মীরা।
তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে মেয়েদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়েদের সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা জানান, এই ঘটনায় জড়িত মা-বাবাসহ যারা নাবালিকাদের উপর এমন নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে, তাদের কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ বড় বোনের পাশে বসে থাকা ছোট বোনের সেই নিঃশব্দ উপস্থিতি, তার অসহায় চাহনি — উপস্থিত মানুষদের চোখে জল এনে দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন — একটি শিশু কেবল ‘না’ বলার জন্য এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হবে? সমাজ কি আজও কন্যাসন্তানদের নিজস্ব সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিতে শেখেনি?
এই ঘটনা ত্রিপুরার প্রশাসন ও সমাজব্যবস্থার সামনে এক কঠিন প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরে — কবে আমরা আমাদের মেয়েদের সত্যিকারের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দিতে পারব?








