বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নষ্ট করছে দুষ্কৃতীরা, স্কুল চত্বরে পুলিশের টহলের দাবি বিদ্যার্থী পরিষদের।
জোলাইবাড়ি, দক্ষিণ ত্রিপুরা | রিপোর্ট; বাহাদুর ত্রিপুরাঃ পশ্চিম জোলাইবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কে.টি. ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়’-এ বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর নিয়মিতভাবে একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এলাকার কিছু দুষ্কৃতিকারী স্কুলের ক্লাসরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে বসে মদ্যপানসহ অন্যান্য অপ্রীতিকর কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, এই অসামাজিক ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ফলে স্কুলের ফ্যান, লাইট, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্কুলের টয়লেটের দরজা ও জলের পাইপলাইন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আজ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র জোলাইবাড়ি নগর শাখার এক দল কার্যকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে উপস্থিত শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তারা এই সমস্ত সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন। এর পর, সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের উদ্দেশ্যে ABVP-র পক্ষ থেকে জোলাইবাড়ি আউট পোস্টে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ধ্যার পর যেন বিদ্যালয়ের চারপাশে নিয়মিত পুলিশের টহল দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ বিদ্যালয় চত্বরে ঘোরাঘুরি করলে তাকে অবিলম্বে আটক করা হয়। তারা জোরালোভাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, যদি এই সমস্যা অবিলম্বে সমাধান না করা হয়, তাহলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জোলাইবাড়ি আউট পোস্টের ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসি) মহাশয় আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি নিজে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে বিদ্যালয় ও তার পরিকাঠামো আর কোনও ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিভাবকরা এবং স্থানীয় সমাজসেবীরাও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।








