“রাবার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক চক্রান্ত: পাল্টা দাবি বিজেপি জনজাতি মোর্চার”
কৈলাসহর, ২৪ জুলাইঃ রাবার ও বাঁশ চাষ প্রকল্পে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে আজ সাংবাদিক সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বিজেপি জনজাতি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য জুসেফ ডারলং। গতকাল গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদরুরজ্জামান এই প্রকল্প নিয়ে যেসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি জনজাতি মোর্চা আজ পাল্টা বক্তব্য রাখে।
চিনিবাগান এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জুসেফ ডারলং বলেন, “যা কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই তিনটি এডিসি ভিলেজ—দেওরাছড়া, হীরাছড়া এবং ঊনকোটি—এ রাবার প্রকল্পে গ্রাম সভার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বেনিফিশিয়ারি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কংগ্রেস কর্মীরাও উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করেছেন।”
তিনি আরও জানান, “এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাজ চলছে এবং এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে গৌরনগর ব্লক অফিস। গ্রাম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা গৃহীত হয়েছে এবং তা যথাযথভাবে ব্লকের BDO-র কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।”
এই সম্মেলনে জুসেফ ডারলং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহর বিজেপি মণ্ডলের জনজাতি মোর্চার মণ্ডল সভাপতি মুনা ডারলং সহ তিনটি ভিলেজ কমিটির বিজেপি জনজাতি মোর্চার সক্রিয় সদস্যরা।
বদরুরজ্জামানের অভিযোগে মন্ত্রী কর্তৃক স্বজনদের বেনিফিশিয়ারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা সরাসরি খণ্ডন করে জুসেফ ডারলং বলেন, “আমাদের গ্রামসভা ও দলীয় আলোচনা ছাড়া কোনো নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। দপ্তরের মন্ত্রী বা অন্য কোনো ব্যক্তি নিজের পছন্দমত কাউকে তালিকায় তোলেননি।”
তিনি স্পষ্ট করে দেন, “গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতি এই প্রকল্পের প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পড়ে না। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হচ্ছেন করমছড়া কেন্দ্রের MDC বিমল কান্তি চাকমা। অতএব পঞ্চায়েত সমিতিকে অবগত করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”
বিজেপি জনজাতি মোর্চা আজকের এই সম্মেলনে বদরুরজ্জামানের বক্তব্যকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর” বলে অভিহিত করে বলেন, প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে আনা এবং মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।








