কৈলাসহরের মধ্য গোবিন্দপুরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চরম অব্যবস্থা! সকাল ৭টার বদলে দরজা খুলছে বেলা ৯টায়।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা । ২৩ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরার কৈলাসহর পুরপরিষদের অন্তর্গত মধ্য গোবিন্দপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চরম বেহাল অবস্থার চিত্র উঠে এসেছে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। মূলত, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে যে চিত্র দেখতে পায়, তা প্রশাসনিক অব্যবস্থার একটি পরিষ্কার প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলা উচিত সকাল ৭টার মধ্যে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই কেন্দ্রে তালা খোলা হয় বেলা ৯টার পর। দীর্ঘ সময় ধরে এমনই অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই কেন্দ্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন অনামিকা দাস এবং সহায়িকা কাজল সরকার, যাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
সংবাদমাধ্যম যখন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়, তখন সেখানে একজন শিশুও উপস্থিত ছিল না, ছিল না গর্ভবতী মহিলা বা প্রসূতি মা, এমনকি কোনো পুষ্টিকর খাদ্য বণ্টনের কার্যক্রমও চোখে পড়েনি। অথচ এই কেন্দ্রের উদ্দেশ্যই হলো—৫ বছরের নিচের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, পুষ্টি ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রস্তুত করা এবং গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির নিশ্চয়তা দেওয়া।
একজন অভিভাবক বলেন,
“প্রতিদিন সকালেই দরজা তালা অবস্থায় দেখা যায়। কেউ এসে ঠিকঠাক খোলেন না, আর আমরা বাচ্চাদের এখানে পাঠিয়ে কী লাভ হবে—সে প্রশ্ন আজ আমরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছি না।”
এমন নয় যে এই সমস্যা আজ নতুন করে দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পুরপরিষদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে একাধিকবার, তবে সেইসব বৈঠক শেষ হয়েছে শুধু কথার খেলাপেই। কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন বা জবাবদিহি আজও পরিলক্ষিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র শুধু একটি সরকারি ভবন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে, মায়েদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো পরিচালিত হয়। কিন্তু যদি সেই কেন্দ্রে পরিষেবা না থাকে, তাহলে এর প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের উপরেই পড়বে।
? অভিভাবকদের প্রধান দাবি:
- কেন্দ্রে প্রতিদিন সঠিক সময়ে দরজা খোলা ও কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করা।
- শিশু, গর্ভবতী মা ও প্রসূতিদের যথাযথ খাদ্য ও পুষ্টি বিতরণ নিশ্চিত করা।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যদি অবহেলা প্রমাণিত হয়।
- নিয়মিত তদারকির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ দল গঠন।
এখন প্রশ্ন একটাই—এতদিন ধরে চলে আসা এই গাফিলতির বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা? সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি এবার দায়িত্ব নিয়ে এই কেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনবে?
পুরো এলাকা এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। নিরবতা নয়, এবার দরকার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা।








