অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, গ্রাহকের স্বর্ণ উধাও — উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন.
আগরতলা, ত্রিপুরা । ২৩ জুলাই ২০২৫ঃ রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দিন-দুপুরে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য অথচ বাস্তব ঘটনা। সাধারণ মানুষ যাদের উপর ভরসা করে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ও মূল্যবান সোনা জমা রাখেন — সেই ব্যাংকেই এবার ভরসার চরম অবমাননা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আগরতলা ব্রাঞ্চের অ্যাক্সিস ব্যাংকে, যেখানে এক গ্রাহকের গোল্ড লোন সংক্রান্ত লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।
রেশমবাগান এলাকার বাসিন্দা রানা দেবনাথ, বছরখানেক আগে অর্থাৎ প্রায় ১২ মাস আগে, ৯ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক আগরতলা শাখা থেকে, যা তিনি গোল্ড লোন হিসেবে স্বর্ণ বন্ধক রেখে গ্রহণ করেন। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী লোন পরিশোধের পর তিনি ব্যাঙ্কে এসে নিজের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত চাইতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ অস্বীকার করে বসে।
ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজার কৌশিক কুন্ডুর বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ — রানা দেবনাথের জামানত রাখা সোনার অস্তিত্বই তিনি অস্বীকার করছেন, এবং দাবি করছেন, ব্যাঙ্কের রেকর্ডে সেই সোনা এখন নেই। অথচ রানা দেবনাথের হাতে থাকা সমস্ত ঋণের কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক-স্ট্যাম্পকৃত কনফার্মেশন ও জমা দেওয়া সোনার ওজনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো ভুল করেননি।
এই ঘটনায় শুধু রানা দেবনাথ নন, গোটা রাজ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে — যদি এভাবে কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে প্রতারণার শিকার হন, তবে ভবিষ্যতে আর কে ব্যাংকে স্বর্ণ জমা রাখতে সাহস করবে? ব্যাংক কি শুধুই এক বিল্ডিং, নাকি সেটা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা?
রানা দেবনাথ সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“আমি নিজে এই ব্যাংকে বিশ্বাস করে আমার পরিবারের সোনার গয়না জমা রেখে লোন নিয়েছিলাম। এখন যখন লোন শোধ করে সোনা ফেরত চাইছি, তখন ব্যাংক বলছে সোনা নেই। তাহলে কি আমার সোনা হাওয়া হয়ে গেল? এটা সরাসরি প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়!”
স্থানীয় সমাজকর্মী ও নাগরিক সমাজের একাংশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার কৌশিক কুন্ডু এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাঙ্কের আভ্যন্তরীণ মহলে গুঞ্জন, এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়।
? উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
- একজন সাধারণ গ্রাহক যদি ব্যাংকে এভাবে প্রতারিত হন, তাহলে কাকে বলবেন?
- ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় যদি এমন দুর্নীতি থেকে থাকে, তবে সেই দুর্নীতির দায় কে নেবে?
- কেবলমাত্র ব্যাঙ্কের দায়িত্বহীনতার কারণে কি গ্রাহক তার কষ্টার্জিত সোনার গয়না হারাবে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগরতলা শহরের অন্যান্য গ্রাহকেরাও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাতে বাধ্য হবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সংগঠনগুলি এই ঘটনার উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে।








