সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়াই হিজাব নিষিদ্ধ! খিলপাড়ার ঘটনার পিছনে কি ধর্মীয় বিভাজনের চেষ্টা?
উদয়পুর, ত্রিপুরা । ২৩ জুলাই ২০২৫ঃ উদয়পুর পৌর পরিষদের নিকটবর্তী খিলপাড়া গ্রামে অবস্থিত খিলপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় সম্প্রতি এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের হিজাব পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া হঠাৎ করে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে যেমন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত, যখন বিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার সময়েই সংখ্যালঘু ছাত্রীদের হিজাব পরে স্কুলে আসার ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যদিও জনসাধারণ ও অভিভাবকদের চাপের মুখে তিনি পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন, কিন্তু বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাবি করেন—এই নির্দেশনা প্রধান শিক্ষিকার মৌখিক নির্দেশেই দেওয়া হয়েছিল।
এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত হিজাব সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত রায় প্রদান করেনি। ফলে বহু বছর ধরে চর্চিত ও গৃহীত হিজাব পরিধান প্রথার বিরোধিতা করে এই সিদ্ধান্ত দেওয়াতে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের ধর্মীয় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হতে শুরু করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ বিদ্যালয় নীতি পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার ও ধর্মীয় বিভাজন তৈরির মত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা যেতে পারে। জনসচেতনতা ও শান্তিপ্রিয় মানুষের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোনো অশান্তি ঘটেনি, তবে এই ধরনের ঘটনা যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরাতে পারত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গোমতী জেলা উপশিক্ষা অধিকর্তার নিকট স্মারকলিপি জমা দেয়। এই ডেপুটেশনের নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি শ্রী সৌমিত্র বিশ্বাস। ডেপুটেশনে তিনি দাবি করেন, যারা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
ডেপুটেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিসিসি সদস্য প্রদীপ সরকার, ছাত্রনেতা হুমায়ুন মিঞা, অভি কুমার জমাতিয়া, স্বপন নমঃ দাস এবং লিটন দাস প্রমুখ। তাঁদের সকলেই এই অবৈধ নির্দেশনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের দাবি জানান এবং বিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাংবিধানিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি আজ আরও একবার জোরালোভাবে সামনে এসেছে খিলপাড়া স্কুলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।








