মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও তপশিলি জাতি কল্যাণের অগ্রগতির লক্ষ্যে জেলাশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত।
আগরতলা, ত্রিপুরা । ২২ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরা রাজ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখা মূল দপ্তরগুলোর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—মৎস্য দপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর এবং তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর। এই তিনটি দপ্তরের কার্যক্রম, কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির অগ্রগতি ও সমস্যা বিশ্লেষণ করে যথাযথ সমাধানের উদ্দেশ্যে আজ অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ ত্রিদপ্তরীয় পর্যালোচনা বৈঠক।
এই পর্যালোচনা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ে, এবং বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী ডঃ সুধাংশু দাস।
এই গঠনমূলক আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
- পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল,
- জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার,
- সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তরের আধিকারিকবৃন্দ,
- প্রকল্প সমন্বয়কারী ও মৎস্যচাষী প্রতিনিধি,
- প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে যুক্ত গ্রামীণ প্রতিনিধিরাও।
বৈঠকে মন্ত্রী ডঃ সুধাংশু দাস স্পষ্টভাবে জানান,
“ত্রিপুরা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। মৎস্যচাষ, গবাদিপশুপালন এবং তপশিলি জাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলার প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও গতি আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়নের উপরেই নির্ভর করছে সরকারের উন্নয়ন দর্শনের বাস্তবতা। তাই দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।”
মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
- পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে,
- তবে মাছচাষে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে,
- সরকারি হ্যাচারিগুলোর আধুনিকীকরণ এবং নতুন জলাধার নির্মাণে তহবিল সংস্থানের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পর্যালোচনায় উঠে আসে—
- খামার গবাদি পশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন ও হাঁস-মুরগি খামার সম্প্রসারণের ইতিবাচক দিক,
- প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারজাতকরণে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন,
- বিশেষত মহিলা খামারিদের জন্য পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে।
তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর থেকে জানানো হয়—
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হাউজিং এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প চলমান,
- কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই উপভোক্তারা সময়মত সুবিধা পাচ্ছেন না,
- এজন্য জেলা প্রশাসন ও পঞ্চায়েত স্তরের সমন্বয় বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়।
জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার বলেন,
“সরকারি প্রকল্পের সুফল যাতে শেষ প্রান্তিক মানুষটি পান, সেটা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অগ্রাধিকার। প্রতিটি স্তরে নজরদারি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।”
সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন,
“ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নে এই তিনটি দপ্তরের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলি সরাসরি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান মিলবে।”
আজকের এই ত্রিদপ্তরীয় পর্যালোচনা বৈঠক প্রমাণ করে দিল—সরকার কেবল প্রকল্প ঘোষণা করেই থেমে নেই, বরং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক তৎপরতা ও স্বচ্ছতা আনতে সচেষ্ট। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার এই বৈঠক রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও একটি রোল মডেল হতে পারে।
সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও তদারকি—এই তিনটি মূলস্তম্ভে ভর করে রাজ্য সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামাজিক ন্যায় ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিশা।








