ঐতিহাসিক জুলাই মাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি—ত্রিপুরা বিধানসভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মৃতির পথে সম্মান ও দায়বদ্ধতার বার্তা।
আগরতলা, ত্রিপুরা । ২২ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরা বিধানসভার গৌরবময় ইতিহাসে “ঐতিহাসিক জুলাই” শুধুই একটি মাস নয়—এটি একটি চেতনার নাম, একটি দায়বদ্ধতার বার্তা বহনকারী মুহূর্ত। এই ঐতিহাসিক আবহের মধ্য দিয়েই আজ ত্রিপুরা বিধানসভা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী এবং অনুপ্রেরণামূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, যা আগামী প্রজন্মের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি নীরব শিক্ষা।
? গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মিলন:
এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা, যিনি নিজ হাতে একটি চারা গাছ রোপণ করে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের উচ্চপদস্থ মন্ত্রীরা ও বিধানসভার নেতৃবৃন্দ।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে একসাথে অংশগ্রহণ করেন, যা প্রকৃত গণতন্ত্রের উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
উপস্থিত ছিলেন—
- শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ,
- জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা,
- বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী,
- বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়,
- প্রবীণ বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা,
- বিধায়ক দীপক মজুমদার,
- বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ব বন্ধু সেন,
- বিধানসভার মুখ্য সচেতন কল্যাণী রায়,
- মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়,
- মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা,
- বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল
সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
️ মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা:
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন,
“একটি বৃক্ষ একটি জীবনের প্রতীক। আজ আমরা যেসব গাছ রোপণ করছি, তা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ছায়া, একটি নিঃশ্বাসের অবলম্বন হবে। এই ঐতিহাসিক মাসে এমন একটি উদ্যোগ শুধু পরিবেশ নয়, আমাদের গণতন্ত্রেরও শক্ত ভিত গড়ে তোলে।”
বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী বলেন,
“রাজনৈতিক মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, তবে পরিবেশ রক্ষা, ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা এককাট্টা।”
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ব বন্ধু সেন বলেন,
“ত্রিপুরা বিধানসভার পথচলা শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের নয়, সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনেরও। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেই দায়িত্ববোধের একটি মূর্ত প্রতীক।”
ত্রিপুরা বিধানসভার ইতিহাসে জুলাই মাস গুরুত্বপূর্ণ নানা ঘটনার সাক্ষী। এই মাসেই বিধানসভার বহু ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হয়েছে। আর সেই স্মৃতির পথ বেয়েই আজকের দিনটি “স্মরণ, সম্মান এবং সবুজ ভবিষ্যতের শপথ”-এর দিন হয়ে উঠেছে।
ত্রিপুরা বিধানসভার এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রমাণ করে দিল—রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, তা সামাজিক দায়িত্বেরও অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। আর যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিরোধী দলনেতা, বিধানসভার অধ্যক্ষ থেকে সাধারণ কর্মী—সবাই একসাথে হাতে মাটি লাগিয়ে গাছ রোপণ করেন, তখন সেটা হয়ে ওঠে সম্মিলিত চেতনার প্রতীক।
এই উদ্যোগ শুধু বিধানসভার নয়, বরং সমগ্র ত্রিপুরার মানুষের জন্য এক প্রেরণা—যেখানে অতীতের গৌরবকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।








