ধর্ম নিয়ে কটাক্ষের জবাব ‘ভক্তির মাধ্যমে’ — প্রাক্তন সাংসদের হাতে হনুমান মূর্তি তুলে দিলেন বিজেপি ও স্থানীয়রা।
আগরতলা, ত্রিপুরা। ১৫ জুলাই ২০২৫ঃ গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন সাংসদ শঙ্কর প্রসাদ দত্তের একটি মন্তব্য। হনুমানজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি যেমন একাংশের সমর্থন পেয়েছেন, ঠিক তেমনই জনরোষও সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে এবার সরব হলেন আগরতলার ৬ নম্বর এলাকার বিজেপি কার্যকর্তারা ও সাধারণ মানুষ।
আজ সকালে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল শঙ্কর দত্তের বাসভবন। ৬ আগরতলার বিজেপি মণ্ডল ও এলাকার হিন্দু জনসাধারণ মিলে সরাসরি তাঁর বাড়িতে যান এবং তাঁর হাতে তুলে দেন ‘হনুমান চালিশা’ এবং একটি ছোট হনুমান মূর্তি।
এই প্রতীকী উপহার প্রদান করে তাঁরা প্রাক্তন সাংসদের প্রতি এক শান্তিপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিজেপি কর্মীদের একজন বলেন, “আমরা শঙ্কর দত্তের সদবুদ্ধির কামনা করি। তিনি যেন হনুমান চালিশা পাঠ করে আত্মোপলব্ধি করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। আমরা কেউ তাঁর শত্রু নই, আমরা চাই তিনি হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও বলেন, “এই ঘটনা আমাদের আবেগে আঘাত করেছে। ধর্মকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা তাঁর হাতে এই দুই উপহার তুলে দিয়ে বলতে চেয়েছি – ধর্মকে বুঝুন, অপমান নয়।”
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই এক সভামঞ্চ থেকে শঙ্কর দত্ত হনুমানজিকে ঘিরে এক মন্তব্য করেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর থেকেই শুরু হয় নিন্দার ঝড়।
এদিনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট করে জানান, তাদের কোনো হুমকি বা জোর জবরদস্তির উদ্দেশ্য ছিল না। বরং একধরনের সামাজিক বার্তা দিতেই এই অভিনব পথ অবলম্বন করেছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ধর্মীয় ইস্যুতে রাজনীতি ফের চাঙ্গা হতে চলেছে।








