“স্মার্ট মিটার নয়, গরিবের শ্বাসরোধ!”—রতন লাল নাথের বাড়ির সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উত্তাল মুহূর্ত।
আগরতলা, ত্রিপুরা। ১৪ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরায় স্মার্ট মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে জন অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমশ চরমে পৌঁছাচ্ছে।
আর এই ইস্যুতেই এবার সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস।
আজ তৃণমূল কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকী ও তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় রাজ্যের মন্ত্রী রতন লাল নাথের সরকারি বাসভবনের সামনে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের যুব শাখার নেতা শান্তনু সাহা, যিনি এই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেন।
তাঁর সাথে ছিলেন দলের বহু কর্মী-সমর্থক, ছাত্র-যুব সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা, যারা হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং মুখে স্লোগান তুলে বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকে সাধারণ মানুষ ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিলের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা মধ্যবিত্ত ও গরিব শ্রেণির মানুষের পক্ষে একপ্রকার অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, মিটার ম্যানেজমেন্টে কোন স্বচ্ছতা নেই, ভুল বিল বা অস্বাভাবিক বিলিং-এর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ সরকার নির্বিকার।
এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের দাবি, এই প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
শান্তনু সাহা বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে বলেন—
“সরকার যে স্মার্ট মিটার বসাচ্ছে, তা আসলে গরিব মানুষের রক্ত চুষে নেওয়ার নতুন কৌশল। বিদ্যুৎ বিলের নামে শোষণ চলছে। আমরা এই অপশাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছি, সাধারণ মানুষের পাশে আছি, থাকব।”
বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশি নজরদারিতে তা নিয়ন্ত্রণে থাকে। মন্ত্রী রতন লাল নাথ অবশ্য এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি বা প্রকাশ্যে আসেননি।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও স্মার্ট মিটার বিরোধী ক্ষোভ বাড়ছে। বাড়ছে প্রতিবাদ।
তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা শুধু এই বিক্ষোভে থেমে থাকবে না—আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাকও দিতে পারে।
ত্রিপুরায় স্মার্ট মিটার বিতর্ক এখন রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। জন অসন্তোষের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের সংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে এবার সরাসরি রাজ্য মন্ত্রীর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল।
এখন দেখার বিষয়, সরকার এই বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে—না কি “স্মার্ট নীরবতা”ই বজায় রাখবে।








