তহশিল দূরে, দুর্ভোগ নিত্যদিনের! তেলিয়ামুড়ার নাগরিক সুবিধা রক্ষায় সিপিআইএম-এর জোরালো পদক্ষেপ।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা। ১৪ জুলাই। রিপোর্ট; মৃণময় রায়ঃ তেলিয়ামুড়া মহকুমা এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগকে সামনে রেখে, রেভিনিউ সার্কেল পুনর্বিন্যাস তথা তহশিল পরিবর্তনের দাবিতে এবার সরব হলো ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম)।
আজ, তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে মহকুমা শাসকের (SDM) নিকট একটি ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর তহশিল সংযুক্তি ও সার্কেল পরিবর্তনের বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এই ডেপুটেশন ঘিরে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এক প্রাসঙ্গিক অভিযোগ।
তেলিয়ামুড়া পৌর পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগর সুকান্ত পল্লী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দশমীঘাট ও নেতাজি নগর, এবং ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গামাইবাড়ি আরএফ-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলি, বর্তমানে তেলিয়ামুড়া তহশিল নয়, বরং কৃষ্ণপুর ও হাওয়াইবাড়ি তহশিলের অন্তর্গত। এই তহশিলগুলি পৌর শহর থেকে ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এর ফলে, ঐসব এলাকার সাধারণ মানুষকে রেভিনিউ বা জমি সংক্রান্ত যে কোনও কাজের জন্য দূরবর্তী তহশিল অফিসে যেতে হচ্ছে, যা একদিকে যেমন সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য, অন্যদিকে আর্থিকভাবে ব্যয়বহুল।
এই অবস্থাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রশাসনিক গাফিলতি বলেই চিহ্নিত করছেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।
ডেপুটেশন প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দলের বিভাগীয় নেতৃত্ব—সুবীর সেন, বিজয় মোদক, মলয় দেব সহ অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা।
তাঁরা জানিয়েছেন—
“শহরের অন্তর্গত ওয়ার্ডগুলো যখন পরিষ্কারভাবে পৌর পরিষদের আওতাধীন, তখন কেন তাদের কৃষ্ণপুর বা হাওয়াইবাড়ি তহশিলের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়েছে? এটা অনৈতিক ও জনবিরোধী পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র প্রশাসনিক অসঙ্গতির জন্য।”
তাঁদের দাবি, ঐসব ওয়ার্ডগুলিকে তেলিয়ামুড়া শহরের অন্তর্গত তহশিল ও রেভিনিউ সার্কেলের অধীনে এনে, তথ্য আপডেট করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বহু মানুষ বলেছেন,
“জমির পাট্টা, নামজারি বা অন্যান্য সার্টিফিকেট নিতে হলে অন্ততপক্ষে ৮–১০ কিলোমিটার যেতে হয়, যা আমাদের মতো দিনমজুর শ্রেণির পক্ষে অসম্ভব এক বোঝা। এই অনিয়ম বন্ধ হওয়া দরকার।”
? উপসংহার:
এই ডেপুটেশনের মাধ্যমে সিপিআইএম একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে তুলে ধরেছে, তেমনি প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—“ভোটের সময় মানুষের দরজায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, অথচ প্রশাসনিক বিভ্রাটে আজও শহরের মধ্যেই তহশিলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।”
এখন দেখার বিষয়, মহকুমা শাসক এই ডেপুটেশন গ্রহণ করার পর কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রাজনগর, দশমীঘাট ও গামাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের বাস্তব প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।








