ভাড়া নিচ্ছে পুরসভা, সংস্কার নেই! খোয়াইয়ের ঐতিহ্যবাহী টাউন হলে নাটক চলাকালীন ছাদ ফুটো, ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী।
খোয়াই, ত্রিপুরা। ১৪ জুলাই ২০২৫ঃ একসময় যেখান থেকে গড়ে উঠেছিল খোয়াই শহরের সাংস্কৃতিক চেতনার উজ্জ্বল স্বরূপ, আজ সেই ঐতিহাসিক পুরাতন টাউন হল নিজেই যেন ইতিহাসের এক উপেক্ষিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।
ত্রিপুরার খোয়াই শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই টাউন হল বহু দশক ধরে রাজ্যের সংস্কৃতিচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।
এখানে মঞ্চস্থ হয়েছে অসংখ্য নাটক, নৃত্য, সংগীত, চিত্র প্রদর্শনী, কবিতা পাঠ ও নাট্য কর্মশালা। রাজ্যের অনেক খ্যাতনামা শিল্পীর প্রথম পথচলার সাক্ষী থেকেছে এই মঞ্চ। কিন্তু আজ—এই কালের সাক্ষী হয়ে ওঠা প্রাঙ্গণটাই নিজেই যেন আর্তনাদ করছে অবহেলা ও অযত্নে।
গতকাল (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করা যাবে), রাজ্যের এক খ্যাতনামা নাট্যদলের নাটক চলাকালীন টাউন হলের ছাদ থেকে বৃষ্টির জল ঝরঝর করে পড়তে শুরু করে। দর্শকরা ছাতা মেলে নাটক উপভোগ করেন—এ যেন মঞ্চনাটকের সঙ্গে এক ‘রিয়েল লাইফ ট্র্যাজেডি’!
উল্লেখযোগ্য যে, সেই অনুষ্ঠানে খোয়াই পৌর পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজের চোখে পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও, কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেননি বা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেননি।
এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে খোয়াই শহরের সাংস্কৃতিক এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক সমাজ।
তাঁরা বলছেন—
“যে টাউন হল খোয়াই শহরকে ‘সংস্কৃতির শহর’ বলে পরিচিতি এনে দিয়েছিল, আজ তারই ছাদ ভেঙে জল পড়ছে আর প্রশাসন চুপ করে আছে—এটা কি মেনে নেওয়া যায়?”
নাগরিকদের অভিযোগ আরও গম্ভীর। তারা বলছেন, খোয়াই পৌর পরিষদ টাউন হলটি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে ভাড়া দিয়ে ভাড়া বাবদ অর্থ গ্রহণ করছে, অথচ সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা জনসমক্ষে নেই।
“টিকিট কেটে আমরা নাটক দেখতে আসি, আর এখানে এসে ছাতা খুলে বসতে হয়—এটাই কি নাগরিক পরিষেবা?”
প্রশ্ন তুলছেন দর্শক ও সাংস্কৃতিক মহল।
বিভিন্ন শিল্প-সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে—টাউন হলটিকে অবিলম্বে সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করতে হবে। প্রয়োজনে সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতা নিতে হবে।
তারা বলেন—
“শুধু ভাড়া তুলে গেলে হবে না, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো রক্ষা করাও পৌর পরিষদের দায়িত্ব। এখানে শুধু নাটক নয়—ভবিষ্যতের শিল্পচর্চার বীজ রোপণ হয়। এই বীজ যদি পচে যায়, তাহলে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
খোয়াই টাউন হল শুধুমাত্র একটি প্রেক্ষাগৃহ নয়—এটি একটি অনুভূতি, একটি পরিচয়, একটি সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। সেই প্রতীক আজ ভেঙে পড়ছে পৌর অবহেলায়।
শহরের বুদ্ধিজীবী মহল, সংস্কৃতিকর্মী, এবং সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে এখন একটাই প্রশ্ন—
“কবে সচেতন হবে খোয়াই পৌর পরিষদ?”
“কবে আবার টাউন হলের ছাদ থেকে আলো পড়বে, জল নয়?”








