খোয়াই জিপস্ট্যান্ডের শৌচালয়ে ড্রাগস সেবনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন সরকারি কর্মচারী, চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়।
খোয়াই, ত্রিপুরা ৩১ জুন ২০২৫ঃ দুপুর সাড়ে বারোটার সময় খোয়াই শহরের কেন্দ্রীয় জিপস্ট্যান্ডের শৌচালয়ে ঘটে এক রীতিমতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় গাড়ি চালকদের সন্দেহের ভিত্তিতে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক সরকারি কর্মচারী, যিনি ওই শৌচালয়ে বসে নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য সেবন করছিলেন। ধৃত ব্যক্তির নাম নিতেন্দু দেববর্মা, বাড়ি রামচন্দ্রঘাট এলাকায়। তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও, তার এমন কার্যকলাপে বিস্মিত সকলেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিতেন্দু প্রায়শই জিপস্ট্যান্ডের শৌচালয়ে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন এবং সেসময় অসংলগ্ন আচরণ করতেন। ফলে আজ এলাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। স্থানীয় গাড়ি চালকদের কয়েকজন আজ তাকে নজরে রাখেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তাকে হাতে-নাতে মাদক সেবনেরত অবস্থায় ধরে ফেলেন। এরপরেই ঘটনাটি জানানো হয় পুলিশকে।
খবর পেয়ে সুভাষ পার্ক আউটপোস্ট থেকে ওসি রঞ্জিত সরকার সহ একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীকে জিপস্ট্যান্ডের শৌচালয় থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খোয়াই শহরে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও ব্যবহারে তারা চরমভাবে অতিষ্ঠ। একের পর এক অভিযান চালিয়েও পুলিশ মাদকের মূল চক্র বা মূল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শহরের যুবসমাজ ক্রমেই এই অবৈধ নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে।
নিতেন্দু দেববর্মার ঘটনাও এই ভয়ানক বাস্তবতারই এক প্রতিফলন। একজন সরকারি কর্মচারী যখন প্রকাশ্য দিবালোকে শৌচালয়ে বসে এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তখন সেটি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং গোটা সমাজ ব্যবস্থার ওপরই বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সে মাদকের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ রাখছিল। একই সঙ্গে শহরে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আরও কঠোরতা আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা পুলিশের প্রতি আস্থা রাখতে চাইলেও দাবি করেছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনে নজরদারি বাড়াতে হবে, শহরের প্রতিটি জায়গায় নিয়মিত টহল চালাতে হবে এবং মাদকের মূল চক্রটিকে ভেঙে দিতে হবে যেকোনো মূল্যে।








