আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সবুজায়নের সমন্বয়—তপোবন আশ্রম ঘুরে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার উন্নয়নের আশ্বাস।
সূর্যমনি নগর, আগরতলা, ২৯ জুন ২০২৫ঃ রবিবার বিকেলে, এক আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সফরে ত্রিপুরা রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা উপস্থিত হন আগরতলার সূর্যমণি নগরে অবস্থিত তপোবন আশ্রমে। জনবিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিবেশ-সচেতনতা, নেশামুক্ত সমাজ গঠন ও আধ্যাত্মিক বিকাশ—এই মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ছিল তার এই পরিদর্শন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আশ্রমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন, খোঁজখবর নেন আশ্রমের গঠন, শৃঙ্খলা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যাপারে। আশ্রমের পরিবেশ তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, “তপোবন মানেই প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এক আধ্যাত্মিক আবাস। এই পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আশ্রমকে নারিকেল চারা প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আশ্রম যদি সবুজায়নে গুরুত্ব দেয়, তাহলে তা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, যুবসমাজের মানসিক উন্নয়নের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। “গাছপালা, পাখির ডাক, নিরিবিলি পরিবেশ — এমন জায়গায় আত্মসচেতনতা বাড়ে, মনঃসংযম গড়ে ওঠে, যা মাদকের মতো অভিশাপ থেকে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারে।”
আশ্রম কর্তৃপক্ষও মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানান, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মাণিক সাহা’র ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে প্রস্তুত। তারা বলেন, “এই মুহূর্তে সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট নেশা। যুবসমাজ ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। এটি রুখতে শুধু প্রশাসন নয়, প্রতিটি পরিবারকে, প্রতিটি অভিভাবককে সচেতন হতে হবে।”
আশ্রম কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে আশ্রমের নানাবিধ চাহিদা, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। মন্ত্রীও মনোযোগ দিয়ে সব কথা শোনেন এবং আশ্বাস দেন, আশ্রমের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
?উপসংহার:
ত্রিপুরার মতো এক প্রান্তিক, সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ রাজ্যে আধ্যাত্মিকতা ও পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন শুধু সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য নয়, বরং যুব সমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এই হঠাৎ সফর নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা — প্রশাসন সমাজের মূল স্তরে পৌঁছে কাজ করতে আগ্রহী এবং সচেষ্ট।








