ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে তেলিয়ামুড়ায় পালিত হলো রথযাত্রা উৎসব।
তেলিয়ামুড়া, শুক্রবার: ভক্তি, আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসাহে মুখর হয়ে উঠেছিল তেলিয়ামুড়া মহকুমা, যেখানে চিরচেনা জাঁকজমকের আবহে চৈতন্য আশ্রম প্রাঙ্গণে পালিত হলো শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবছরও আশ্রমের উদ্যোগে এবং শতাধিক ভক্ত-অনুরাগীর সক্রিয় অংশগ্রহণে উদযাপিত হয় এই বহুল প্রতীক্ষিত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানটি।
দুপুর থেকেই আশ্রম চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। তারা সকলেই উপস্থিত হন পবিত্র রথ টানার উদ্দেশ্যে। উৎসবের সূচনা হয় পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে আশ্রম এলাকা জেগে ওঠে কীর্তন, ভক্তিসঙ্গীত ও ধর্মীয় বাণীর মেলবন্ধনে। সুশোভিত রথে অধিষ্ঠিত হন শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবী, যা দর্শনার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে এক অতুলনীয় আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
রথযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল শোভাযাত্রা, যেখানে অংশগ্রহণ করেন নানা বয়সের ধর্মপ্রাণ মানুষ। রথ টানার পাশাপাশি চলতে থাকে প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সৌহার্দ্য বিনিময়। শুধুমাত্র চৈতন্য আশ্রমই নয়, পাশ্ববর্তী রাজনগর, গৌরাঙ্গটিলা, করইলং, ইচারবিল ও মোহরছড়া অঞ্চল থেকেও বের হয় ছোট ছোট রথ, যা পুরো মহকুমা জুড়ে সৃষ্টি করে ধর্মীয় এক আনন্দঘন আবহ।
চৈতন্য আশ্রমের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আশ্রমের পরিচালক রামানন্দ গোস্বামী জানান,
“এই রথযাত্রা উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আজ তেলিয়ামুড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বহু দূর-দূরান্ত থেকেও ভক্তরা এখানে এসে অংশগ্রহণ করেন।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা জানি, জগন্নাথ দেব ৭ দিনের জন্য মাসির বাড়ি যান—তবে বাস্তবিক অর্থে এটি নয়(৯) দিনের একটি আচারিক যাত্রা। পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, তিনি মাসির বাড়ি নয়, গণ্ডি চামুন্ডিতে গমন করেন এই নয় দিনের জন্য।”
এদিকে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন ও স্থানীয় থানার পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় নজরদারিতে গোটা এলাকা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করে।
তবে এবছরের রথযাত্রা উৎসবে অন্যান্য বছরের মতো বিশাল জাঁকজমকতা বা আলোকসজ্জা না থাকলেও, তা ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক থেকে অনন্য হয়ে ওঠে। তেলিয়ামুড়ার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের হৃদয়ে এবারের রথযাত্রা হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় ও তীর্থস্মৃতি পূর্ণ দিন।








