মানবতার পূজারী জালাল মিঞার আরও এক মহতী উদ্যোগ: দুই মুমূর্ষ রোগীকে আর্থিক সহায়তা ও ইসকন ভক্তদের জন্য অন্নদানের চাল হস্তান্তর।
উদয়পুর, বৃহস্পতিবার: সমাজসেবায় আরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘মানবতার পূজারী’ হিসেবে পরিচিত জালাল মিঞা। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় উদয়পুর শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘জালাল খেদমত আল ইনসান ফাউন্ডেশন’-এর কার্যালয়ে এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠানে দুই মুমূর্ষ রোগীকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান এবং জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষকে অন্নভোগের জন্য দশ বস্তা চাল প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদয়পুর মহকুমা শাসক ত্রীদীপ কান্তি সরকার, যিনি স্বয়ং অনুদানগুলি রোগী পরিবার এবং ইসকন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। এই মহতী উদ্যোগের পেছনে ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলী আশ্রফ মিঞা, যিনি জালাল মিঞা নামে জনসাধারণের কাছে অধিক পরিচিত।
দুই পরিবারের চোখে জল, আশার আলো দেখালেন জালাল মিঞা
এই অনুদান পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই মুমূর্ষ রোগীর পরিবারের সদস্যরা। দক্ষিণ মুড়াপাড়া এলাকার ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত এক হতদরিদ্র যুবক, নূর মিঞা এবং জন্ম থেকে মলাধার বন্ধ থাকা শিশু নয়ন সূত্রধরের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাদের পরিবার। জালাল মিঞার এই আর্থিক সহায়তা যেন তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জাগাল।
ইসকন ভক্তদের জন্য রথযাত্রার অন্নভোগে চাল দান
শুধু চিকিৎসা সহায়তাই নয়, মানবিকতার পরশ ছড়িয়ে পড়ে ধর্মীয় ক্ষেত্রেও। রথযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উদয়পুর গোকুলপুর ইসকন মন্দিরের ভক্তদের হাতে অন্নভোগের জন্য তুলে দেওয়া হয় দশ বস্তা চাল। ইসকন কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এমন সহানুভূতিশীল উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
প্রশাসনের প্রশংসা ও জালাল মিঞার অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে মহকুমা শাসক ত্রীদীপ কান্তি সরকার বলেন, “জালাল মিঞা এক ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে চেষ্টা করে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজের এমন প্রান্তিক মানুষ খুব কমই আছেন, যারা এই ফাউন্ডেশন থেকে কোনও না কোনওভাবে উপকৃত হননি।
“মানুষের আশীর্বাদই আমার শক্তি”—জালাল মিঞা
অনুষ্ঠান শেষে জালাল মিঞা বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই না। মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই আমার একমাত্র পরিচয়। যতদিন পারি, প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যাব।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনেও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করবেন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে মানবিকতার বীজ বপন করতে সচেষ্ট হবেন।








