আশারামবাড়িতে শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে পাঠ কার্যক্রম বন্ধ, তালাবদ্ধ স্কুলে চাপা ক্ষোভ।
খোয়াই, আশারামবাড়ি, বৃহস্পতিবার: ত্রিপুরার খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম আশারামবাড়িতে এক প্রাথমিক শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত ঘিরে আজ সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা গ্রাম। শিক্ষক সংকটে ভোগা আশারামবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আজ সাতসকালে স্কুলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জানা গেছে, আশারামবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক বিভাগে মোট ১১২ জন ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন পাঠগ্রহণ করে থাকে।

অথচ সেখানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। তার মধ্যে একজন শিক্ষককে স্কুল ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে ‘ব্লক লেভেল অফিসার’ (BLO) পদে যুক্ত রাখা হয়েছে, ফলে কার্যত ক্লাস নেওয়া শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন। এ অবস্থায় এই অপ্রতুল শিক্ষকসংখ্যা নিয়েই বিদ্যালয় কোনোভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে যদি আরও একজন শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বদলি করে অন্যত্র পাঠানো হয়, তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে—এই আশঙ্কা থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। এরই প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। তালা লাগানোর সময় শিক্ষকরা স্কুলের মধ্যেই অবস্থান করছিলেন, ফলে তাদেরকেও একপ্রকার ঘেরাও করে রাখা হয়। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু প্রশাসন সে ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং বিদ্যমান শিক্ষককেও অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্তে তাদের মনে হয়েছে গ্রামীণ শিক্ষার প্রতি চরম অবহেলা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শিক্ষা দপ্তরের আইএস (ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস)। তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আশ্বাস দেন যে, শিক্ষক বদলির বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখা হবে এবং যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইএস-এর এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই পরে গ্রামবাসীরা তালা খুলে দেন এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই আশ্বাস যদি বাস্তবে পরিণত না হয়, তাহলে তারা আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে শিক্ষা-ব্যবস্থার সংকট দীর্ঘদিনের। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতা—সব মিলিয়ে এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক বদলি একটি বহুল আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, কিন্তু শিক্ষক না থাকলে সেই শিক্ষা কীভাবে হবে? শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত আমাদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।”








