নতুন সভাপতিকে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ও বিদায়ী সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যের।
আগরতলা, ত্রিপুরা । ২৮ মে ২০২৬ঃ ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরমহলে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন, জল্পনা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের অবসান ঘটল। অবশেষে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন গোমতী জেলার মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তরুণ ও গতিশীল বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। তিনি বিদায়ী প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) নতুন দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সদর দপ্তরের ইন-চার্জ অরুণ সিং একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের অনুমোদনে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে অভিষেক দেবরায়কে এই বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিষেক দেবরায়ের পরিচিতি:
৪৩ বছর বয়সী অভিষেক দেবরায় পেশায় একজন ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েট। ২০০১ সালে ছাত্র আন্দোলন ও যুব রাজনীতির হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা (পূর্বে এনএসইউআই এবং যুব কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন)। ২০১৭ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি গোমতী জেলা বিজেপির সভাপতি এবং দলের রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব সামলান। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাতাবাড়ি আসন থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার দিল্লি সফরের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো, যা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’। আসন্ন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ভিলেজ কমিটির নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদি ব্লু-প্রিন্ট সামনে রেখেই বুথ স্তরের কর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ থাকা এই তরুণ নেতাকে সামনে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের অভিনন্দন
অভিষেক দেবরায়কে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন:
“ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য শ্রী অভিষেক দেবরায় জি-কে আন্তরিক অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত যে, তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দূরদর্শিতায় দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং ত্রিপুরার মানুষের কল্যাণে নিরলস ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবে। আগামী দিনে তাঁর একটি সফল কার্যকাল কামনা করছি।”
পাশাপাশি বিদায়ী সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সুশান্ত চৌধুরী, সুধাংশু দাস এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক সহ দলের শীর্ষ স্তরের সমস্ত নেতাই অভিষেক দেবরায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তাঁর নেতৃত্বে ত্রিপুরার সাংগঠনিক শক্তি নতুন মাত্রা পাবে।
এক নজরে নতুন সভাপতির প্রোফাইল ও রাজনৈতিক সফর:

| বিষয় | বিবরণ |
| নাম | অভিষেক দেবরায় (Abhishek Debroy) |
| বর্তমান বয়স | ৪৩ বছর |
| বর্তমান পদ | বিধায়ক, ৩২-মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র (গোমতী জেলা) |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ফার্মেসি স্নাতক (Graduate in Pharmacy) |
| রাজনীতিতে প্রবেশ | ২০০১ সাল (ছাত্র ও যুব আন্দোলনের মাধ্যমে) |
| বিজেপিতে যোগদান | ২০১৭ সাল |
| পূর্বতন সাংগঠনিক পদ | সভাপতি, গোমতী জেলা বিজেপি এবং রাজ্য কমিটির সদস্য |
| কাকে প্রতিস্থাপন করলেন | রাজীব ভট্টাচার্য (যিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন) |






