প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে এলপিজি সরবরাহ, পেট্রোলিয়াম মজুত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি; আবুধাবিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan।
নিউজ ডেস্ক । ভারত । ১৫ মেঃ পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় সাফল্য অর্জন করলো ভারত। জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi।
আজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ সম্মান জানিয়ে স্বাগত জানান সে দেশের রাষ্ট্রপতি Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan। আবুধাবি বিমানবন্দরে দুই নেতার উষ্ণ সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানা গেছে, বর্তমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ভারতের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো এই সফর। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, পেট্রোলিয়াম মজুত ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ-ও সই হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মাঝেও যাতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও ভারত ও আমিরশাহীর মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ খুলে গেছে। নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভবিষ্যতে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আবুধাবি বিমানবন্দরে তাঁকে যেভাবে সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার জন্য তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের সময়ে এই সফর শুধু ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থানকেও আরও শক্তিশালী করবে। এখন গোটা বিশ্বের নজর ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের দিকেই।







