পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের এটিএমে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ; টাকা কেটে গেলেও হাতে পাচ্ছেন না গ্রাহক, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল চক্রের কৌশল।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা। ১৩ মে ২০২৬ঃ তেলিয়ামুড়া শহরে কি তবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন এটিএম প্রতারণা চক্র? সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন—এটিএম থেকে টাকা তুলতেও কি এবার আতঙ্কে থাকতে হবে?
সম্প্রতি তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগর এলাকায় অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের এটিএম ঘিরে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, এটিএমের টাকা বেরোনোর ট্রেতে কৌশলে সেলোটেপ লাগিয়ে রাখছে দুর্বৃত্তরা। ফলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গেলেও সেই অর্থ বাইরে বেরোচ্ছে না। পরে সুযোগ বুঝে সেই আটকে থাকা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
ঘটনার শিকার উত্তর মহারানী এলাকার বাসিন্দা নৃপেন্দ্র দেববর্মা। গত ১ মে তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে পড়েন এই ফাঁদে। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গেলেও হাতে পাননি এক টাকাও। প্রথমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বাস দেয়, কিছু সময়ের মধ্যেই টাকা ফেরত চলে আসবে। কিন্তু অভিযোগ, চার দিন কেটে গেলেও অ্যাকাউন্টে ফেরেনি সেই অর্থ।
পরবর্তীতে গত ৫ মে পুনরায় ব্যাংকের দ্বারস্থ হন নৃপেন্দ্র বাবু। অভিযোগ জমা নেওয়া হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে দাবি তাঁর। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সামনে আসে বিস্ফোরক তথ্য। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত আগেভাগেই এটিএমের ট্রেতে সেলোটেপ লাগিয়ে রেখেছে। গ্রাহক টাকা তুলতে গেলে সেই টাকা বাইরে না এসে ভেতরেই আটকে যাচ্ছে। পরে নির্জন মুহূর্তে সেই টাকা তুলে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে প্রতারক চক্র।
ঘটনার পর নৃপেন্দ্র দেববর্মা তেলিয়ামুড়া থানায় ছুটে যান। কিন্তু অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সহায়তা মেলেনি। এমনকি অভিযোগপত্রের রিসিভ কপিও নাকি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, একই ধরনের আরেক ঘটনাও সামনে এসেছে তেলিয়ামুড়ায়। নৃপেন্দ্র বাবুর বাড়ির পাশ্ববর্তী এক ব্যক্তি, যিনি তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী, গত ১১ এপ্রিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এটিএম থেকে টাকা তোলার পর স্কুটিতে টাকার ব্যাগ রেখে দেন। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। এই ঘটনায়ও তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
ক্রমাগত এইসব ঘটনায় শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের দাবি, এটিএমের মতো সুরক্ষিত জায়গায় যদি দিনের আলোয় এভাবে প্রতারণা ও চুরি সংঘটিত হয়, তাহলে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় কতটা নিরাপদ?
এখন দেখার, প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কবে এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নইলে তেলিয়ামুড়া শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই প্রতারণার জাল যে আরও বহু সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য।







