মুহুরী নদীর সঙ্গমস্থলে পূণ্যস্নান, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় ভক্তদের ভিড়; জমজমাট ব্যবসা, উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা
শান্তির বাজার | মার্চ, ২০২৬: দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তির বাজার মহকুমার অন্তর্গত লাউগাং এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও অত্যন্ত উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী লাউগাং বারুণী মেলা। লাউগাং ও মুহুরী নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে আয়োজিত এই মেলাকে ঘিরে ভোর থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে, ফলে সমগ্র এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
শতাব্দীপ্রাচীন এই বারুণী মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছরের মতো এবছরও হাজারো হাজারো মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি ও মোক্ষ লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র স্নান (বারুণী স্নান) সম্পন্ন করতে।
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো নদীর সঙ্গমস্থলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। ভক্তরা পবিত্র জলে স্নান করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করেন এবং আত্মার সদগতি কামনা করেন। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় পরিবেশে গোটা এলাকা আধ্যাত্মিক আবহে ভরে ওঠে, যা উপস্থিত ভক্তদের মনে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে।
এই বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক কার্যক্রমও গড়ে ওঠে। মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। পোশাক, মিষ্টি, খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রীসহ নানা পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মেলা কমিটির উদ্যোগতারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলাকে আরও সুসংগঠিত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে তারা প্রতি বছর নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তাদের লক্ষ্য, এই মেলাকে শুধু ধর্মীয় নয়, পর্যটন সম্ভাবনাময় এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা।
সবমিলিয়ে, লাউগাং বারুণী মেলা আবারও প্রমাণ করল যে, ধর্মীয় আস্থা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য একইভাবে অটুট থাকবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।








